ধরলা ও তিস্তার পানি কমতে শুরু করায় এ দুই নদীর অববাহিকায় থাকা জনবসতি থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মনে। এদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চিলমারী উপজেলার কিছু চরাঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, শনিবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ৪১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিলমারী উপজেলার রমনা, অষ্টমীচর ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
রমনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজগার আলী সরকার জানান, তার ইউনিয়নের খেউনিপাড়া, বাসন্তী গ্রামসহ বেশ কিছু এলাকার বাড়িঘরে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবেশ করেছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন অষ্টমীচর ও চিলমারী ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরাও।
এদিকে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ও রাজারহাট উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থাকা মানুষদের মাঝে। কিন্তু পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়িতে কিছুটা দুর্ভোগ রয়ে গেছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চর সারডোব এলাকার রাহুল এবং রাজারহাট উপজেলার গতিয়াসাম এলাকার হাবিল ও রব্বানি জানান, চরাঞ্চলগুলো থেকে দ্রুত বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আমরা আমরা দুর্ভোগ থেকে আপাতত মুক্তি পেয়েছি। তবে আবার কখন বন্যা শুরু হয় সেই আশঙ্কাও মনে থেকে মুছে ফেলতে পারছি না।
সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর আলী জানান, আমার ইউনিয়নের প্রায় চার হাজার পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমানে পানি নেমে গেছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, ধরলা নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চেয়ারম্যানদের কাছে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে সহযোগিতা করা হবে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টা ব্রহ্মপুত্র নদ ছাড়া অনন্যা নদ-নদীর পানি হ্রাস পেতে থাকবে।








