ঢাকার কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জমি দীর্ঘ ৪৬ বছর পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৯ জুলাই)ওই জমি উদ্ধার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।পরে কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের (দক্ষিণ) সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমরুল হাসান উদ্ধার হওয়া জমিতে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন।
উদ্ধার হওয়া জমির পরিমান ৩৯ শতাংশ। এই জমির বর্তামান মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের (দক্ষিণ) ভূমি অফিসের নাজির মোহাম্মদ মজিরুল হক জানান, স্বাধীনতার অনেক আগেই শুভাঢ্য কাচারী পাড়া এলাকায় শুভ্যাঢ্যা ভূমি অফিস চালু ছিল। সে সময় ওই ভূমি অফিসকে কাচারী বাড়ি বলা হতো। এই কাচারী বাড়ির সুবাদে ওই এলাকার বর্তমান নামকরণ করা হয়েছে শুভাঢ্যা কাচারী পাড়া। স্বাধীনতার পর নানা কারণে এই অফিসটি রাজধানীর কোতোয়ালি থানার সদরঘাটের ওয়াইজঘাট এলাকায় একটি সরকারি পরিত্যাক্ত ভবনে স্থানান্তর হয়। এলাকাবাসীর সুবিধার্থে এই অফিসটি ওয়াইজঘাট থেকে বর্তমানে আগানগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। একাধিকবার ওই ভূমি অফিসের জমি উদ্ধারের জন্য কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের (দক্ষিণ) সহকারী কমিশনাররা (ভূমি) চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। কিন্ত বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমরুল হাসানের পদক্ষেপে ওই ভূমি অফিসের জমিতে থাকা কয়েকটি পরিবারকে উচ্ছেদ করে ওই জমি উদ্ধার করা হয়। সেখানে শুভাঢ্যা ভূমি অফিসের একটি তিন তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরা করা হয়েছে।
জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া মালারানী মণ্ডল জানান, পাকিস্তান আমলে এখানে একটি চৌচালা টিনশেড ঘরে ভূমি অফিস ছিল। সেই অফিসে আমার শশুর ঋষিকান্ত মণ্ডল ও শাশুড়ী ধর্মনী মণ্ডল কাজ করতেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী ওই কাচারী বাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে ।পরে ১৯৭২ সালে সেখানে একটি একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। সেসময় এই অঞ্চলে ব্যাপক ডাকাতি ও খুনের ঘটনা ঘটায় কাচারী বাড়ির সব স্যারেরা অফিসের নথিপত্র নিয়ে ওয়াইজঘাটে চলে যান। সেই থেকে আমরা এই পরিত্যাক্ত ঘরটিতে বসবাস করে আসছিলাম।
শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম জানান, শুভাঢ্যা ভূমি অফিসের জমি উদ্ধার হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। এজন্য বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমরুল হাসানকে ধন্যবাদ জানায়।
এব্যাপারে বৃহস্পতিবার (১২জুলাই) সকালে কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমরুল হাসানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান,দীর্ঘদিন শুভাঢ্যা কাচারী বাড়ির জায়গাটি বেদখলে ছিল। আমার প্রচেষ্টায় ওই জমিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার কাজে কিছুলোক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছিল। তাদেরকে আমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিহত করেছি।
ইমরুল হাসানের আরও জানান, এই জমিতে শুভাঢ্যা অফিসের একটি তিন তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। ভবনটি নির্মাণ হলে আগান নগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে শুভাঢ্যা ভূমি অফিসটি এখানে স্থানান্তর করা হবে। আশা করি, এই অফিস থেকে ভূমি মালিকরা ভালমানের সেবা পাবেন।








