শিক্ষক সংকটে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এখানে ৮১ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছেন মাত্র একজন। ওই একজনকেই দাফতরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান কার্যক্রমও চালাতে হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন একজন শিক্ষক। ওই শিক্ষক এক ক্লাসে গেলে অন্য ক্লাসগুলোতে পাঠদানের করানোর মতো আর কেউ নেই।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে দুই জন শিক্ষক শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতেন। সম্প্রতি এ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিনকে দিয়েই পাঠদান চলছে।
এ সূত্র আরও জানায়, পৃথক দুই অধিবেশনে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। এর মধ্যে প্রথম অধিবেশনে পাঠদান করা হয় শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের, আর দ্বিতীয় অধিবেশনে পাঠদান করা হয় তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের। কিন্তু একজন শিক্ষক থাকায় তিনি এক ক্লাসে গেলে বাকি ক্লাসগুলো শিক্ষকশূন্য হয়ে যায়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আগে আমিসহ দুই জন শিক্ষক ছিলাম। তখন এতোগুলো ক্লাসে পাঠদান করাতে অনেক কষ্ট হতো। আর এখন একা আমাকেই সব সামলাতে হয়। কী চাপ যে আমার ওপর দিয়ে যায়, বলে বোঝাতে পারবো না। অনেক সময় অফিসিয়াল কাজে শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। সেই সময় তো পুরো স্কুলই শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ চার জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। বার বার আবেদনের পরও শূন্য পদগুলো পুরণ করা হচ্ছে না। শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকলিমা চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই শিক্ষক পেয়ে যাবো।’








