বরিশালে আওয়ামী লীগ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেছেন, ‘মামলা-হামলা ও পুলিশি হয়রানি চলছে। এসবের মধ্যেও ভোটের দিন মাটি কামড়ে হলেও মাঠে থাকবো।’
শনিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে নগরীর সদর রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পুলিশ প্রতিদিনই বিএনপির পুলিং এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। একাধিক মামলা দায়ের করে আমার পুলিং এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে গেলে ভোটের গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের প্রতি ভরসা থাকায় আমরা নির্বচনে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু তারা যা বলছে, প্রশাসন তা শুনছে না। পুলিশ প্রশাসন একটি দলের হয়ে মাঠে কাজ করছে। তারা বিনাকারণে এপর্যন্ত ৩৫-৪০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেরা নিজেদের নির্বাচনি অফিসে আগুন লাগিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের করছে। ৩০টি ওয়ার্ডের ১২৩টি কেন্দ্রের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের হুমকি দিচ্ছে। তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আমাদের পুলিং এজেন্টদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। যদি এজেন্টদের গ্রেফতার করা হয়, তাহলে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে কারা থাকবে?’
মজিবর রহমান সরোয়ারের অভিযোগ, ‘আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আচরণবিধি অমান্য করে যাচ্ছেন। নৌকার প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করছে। নৌকার স্টিকার-পোস্টারে শহর ছেয়ে গেছে। মোটরসাইকেলের মহড়া চলছে। অথচ আমার পেছনে মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা আসলে তাদের নিষেধ করে দেওয়া হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেট, মোবাইল টিমের দায়িত্বে থাকা কেউই আওয়ামী লীগের মোটরসাইকেল মহড়া দেখে না। আমি সভা করলে তার পাশেই আওয়ামী লীগ সমর্থকরা মিছিল করছে, মাইকিং করছে। আওয়ামী লীগের সমর্থক স্থানীয় চেয়ারম্যানদের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় রয়েছেন, যাতে নগরে ঢুকে ভোট জালিয়াতি করতে পারেন।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমরা একাধিকবার এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে জানালেও তারা কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে লিফলেট বিতরণ করতে গেলেও কোনও কারণ ছাড়াই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন– বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এবায়েদুল হক চাঁন, উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবুল হোসেন খান, কেন্দ্রীয় সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ্, বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু প্রমুখ।








