কক্সবাজারে সোনাদিয়া সৈকত থেকে জাতিসংঘ কর্মকর্তা সোলিমান মুলাটার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একই অফিসের কর্মকর্তা জাফরীন আফসারী ও তার স্বামী রবিনকে আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ। আজ শুক্রবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ওই দম্পতিকে থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ১৫৪ ধারায় কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার অভিজাত একটি হোটেল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর থানার ওসি খন্দকার ফরিদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া থেকে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর কক্সবাজার কার্যালয়ের শরণার্থী সুরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা সোলিমান মুলাটার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে একই অফিসের কর্মকর্তা জাফরীন আফসারী ও তার স্বামী রবিনকে আটক করা হয়। আটকের পর থানায় তাদের দুজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জাফরীন আফসারী নিহত ইথিপিয়ার নাগরিক সোলিমান মুলাটার সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িত ছিল বলে স্বীকার করেছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সন্দেহজনকভাবে ১৫৪ ধারা মতে আদালতের মাধ্যমে ওই দম্পতিকে কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘সোলিমান মুলাটার মৃত্যু নিয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাকে কি হত্যা করা হয়েছে, নাকি তিনি নিজেই আত্মহত্যা করেছে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে পরকীয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ চলবে।’
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকাল থেকে ইউএনএইচসিআর এর কক্সবাজার কার্যালয়ের শরণার্থী সুরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা সোলিমান মুলাটা নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই ইউএনএইচসিআর এর এক কর্মকর্তা থানায় জিডি করেন। এর তিনদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেল পয়েন্টে জেলেদের জালে আটকা পড়া অবস্থায় মুলাটার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় মৃতদেহের সঙ্গে পাওয়া কিছু ডকুমেন্ট দেখে সোলিমান মুলাটার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। মৃতদেহটির মুখসহ পুরো শরীর ফুলেফেঁপে বিকৃত হয়ে যায়।
আরও পড়ুন-
সোনাদিয়া সৈকত থেকে জাতিসংঘ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার
জাতিসংঘ কর্মকর্তার মৃতদেহ উদ্ধার: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারী কর্মকর্তাসহ আটক ২








