খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ত্রিপুরা পল্লীর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পুনাতি ত্রিপুরা কৃত্তিকা হত্যার রহস্য পাঁচ দিনেও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, পুনাতিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা এখনও উদ্ঘাটন করা যায়নি। পুলিশের দাবি, বেশ কিছু বিষয়কে মাথায় রেখে তারা আগাচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কোনও তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
পুনাতি হত্যার ঘটনায় গত ২৯ জুলাই তার মা অনুমতি ত্রিপুরা অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে দীঘিনালা থানায় মামলা দায়ের করেন। এর পর পরই সন্দেহভাজন তিন যুবককে আটক করে পুলিশ।
দীঘিনালা থানা সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) সন্দেহভাজন তিন আসামিকে খাগড়াছড়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আলমের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত ওই তিন জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অন্য এক সূত্র জানায়, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রিমান্ড শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে। এ ছাড়া, আরও কিছু বিষয়কে মাথায় রেখে পুলিশি তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, রিমান্ডে নেওয়া শাহ আলম, নজরুল ইসলাম ও মনির হোসেন-ই পুনাতি ত্রিপুরাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। এদের ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঘটনার রহস্য খোলাসা হয়ে যাবে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন শাহ আলম, নজরুল ইসলাম ও মনির হোসেনকে ত্রিপুরা পল্লীতে ঘুর ঘুর করতে দেখা গেছে। এদিন তাদের হাঁটাচলা ছিল সন্দেহজনক।
দীঘিনালার মেরুং ইউপির ১নং ওয়ার্ডের মেম্বর গণেশ ত্রিপুরা বলেন, ‘এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীঘিনালা থানার ওসি আব্দুস সামাদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে তদন্তও চলছে।
খাগড়াছড়ির সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নয়নময় ত্রিপুরা বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ড রিপোর্ট তৈরি করছে। শিগগিরই তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনই কিছু বলতে পারবো না।’
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান বলেন, ‘পুনাতিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, এটা নিশ্চিত। তবে কে বা কারা এবং কেন পুনাতিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সে রহস্য এখনও উদ্ঘাটন করা যায়নি। তদন্ত চলছে। আশা করছি, সে রহস্যও উদ্ঘাটিত হয়ে যাবে।’
গত ২৮ জুলাই রাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নয়মাইল ত্রিপুরা পল্লীতে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় পুনাতি ত্রিপুরাকে।








