পদ্মার ভাঙনের কবলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০৫ আগস্ট ২০১৮, ০৫:৩৬আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ০৫:৪০

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দুই গ্রামের দেড় শতাধিক ঘর-বাড়িসহ অনেক ফসলি জমি ও  আমবাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস, বিজিবি ক্যাম্পসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে এলাকাটি ভাঙনের শিকার হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড যথাযথ কোনও ব্যবস্থায় নেয়নি। ফলে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। আর এবছর ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে ৪০০মিটার এলাকায় নদী তীরে বালুর বস্তা ফেললেও তা কোনও কাজে আসছে না। তাই এলাকাবাসী সেখানে স্থায়ী বাঁধের দাবি জানিয়েছেন।   

সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের অনেক স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ১০ নম্বর বাঁধের অরক্ষিত অংশ গোয়ালডুবি থেকে ইন্দো-বাংলা সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় দেখা দিয়েছে এই তীব্র ভাঙন। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে রোডপাড়া ও কাইড়্যাপাড়ার দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। এছাড়াও চাকপাড়া, মোড়লটোলা, মালবাগডাঙ্গা ও ফাটাপাড়াসহ হুমকির মুখে রয়েছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদী তীরবর্তী লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকেই বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

ফাইল ছবি

মালবাগডাঙ্গা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এবার ভাঙনে তার সাড়ে পাঁচ বিঘা ফসলি জমি ও আমবাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রতিবছরই এই ভাঙনে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। জমিজমা হারিয়ে এখন কিভাবে দিন কাটবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তিনি। বাগডাঙ্গার ইফসুফ জানান, তিন আগেও এই নদী প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এখন গ্রামের কাছে চলে এসেছে। বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, আমবাগান নদীতে সব নেমে গেছে। চরবাগডাঙ্গার কাইড়্যাপাড়া এলাকার নাদিম জানান, নিজেদের চোখের সামনে তারা আর জায়গা-জমি, ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার দৃশ্য যেমন দেখতে চান না।  কোনও আশ্বাস নয় তারা কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চান।

তিন মাস আগেও চরবাগডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্প থেকে পদ্মা নদীর দূরত্ব ছিলো ৮শ গজ। এখন তা কমে হয়েছে মাত্র একশ গজের মধ্যে। সম্প্রতি বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ক্যাম্পটি রক্ষায় ওই এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে তাতে তেমন কোনও কাজ হচ্ছে না। এখন বিওপিটি শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ৫৩ বিজিবি’র  অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ সরোয়ার। তিনি আরও বলেন, ‘বিওপিটি রক্ষায় যথাসম্ভব ভাঙনরোধে চেষ্টা করছি এবং আমরা মনিটরিং করছি যাতে অবস্থা আরও খারাপ হলে ক্যাম্পটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে পারি।’

নদী ভাঙন-ফাইল ছবি

এদিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভুল পরিকল্পনার কারণে গত তিন বছরেও শেষ হয়নি এই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজ। এরই মধ্যে নতুন করে প্রায় ২শ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ জানান, আগের প্রকল্পটিতে নদী ড্রেজিংয়ের কথা ছিল। এজন্য প্রকল্পের বাজেটও বেশি ছিল। প্রকল্পটি পুনঃনিরীক্ষা করে দেখা যায় এই এলাকায় নদী ড্রেজিংয়ের কোনও প্রয়োজন নেই। তাই ড্রেজিং বাদ দিয়ে নতুন প্রকল্প চেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ অবস্থায় নতুন করে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। যাতে স্থায়ী বাঁধ ও পুরনো রিংবাঁধসহ রাস্তা সংস্কার করা হবে।  প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই সামনের শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু হবে।

/আরএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম