হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক ২৭২টি বন্যপ্রাণী গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বের বিরল চার প্রজাতির প্রাণীও রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট পার্ক কর্মকর্তাদের কাছে এগুলো হস্তান্তর করেন।
প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে- কমন মারমু মাঙ্কিসেট ১২টি, লেমুর ২টি, ব্ল্যাক ক্যাপ কুনি ৪টি ও গ্রে কুনি ৯টি। এছাড়া সাধারণ প্রাণিদের মধ্যে ময়ূর ৮টি, লাভ বার্ড ১৫২টি, আফ্রিকান গ্রে বার্ড ৩০টি, ম্যকাউ ১৫টি, সানকুনি ৩৭টি।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়। এগুলো অন্য কোনও মহাদেশ থেকে পাচার করে ভারতের কোনও চিড়িয়াখানা বা ব্যাক্তিগত প্রাণী সংগ্রহশালায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো।
পার্কের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিজাম উদ্দিন জানান, ‘প্রাণিগুলো সঙ্গম নিরোধকালীন (কোয়ারেন্টাইন) পর্ব অতিক্রমের জন্য পার্কে সংরক্ষণ করা হয়েছে। কমপক্ষে ২১ দিন পর এগুলো সাধারণ পাখিশালায় অবমুক্ত করা হবে। পার্কের পাখি সংরক্ষণাগার এতগুলো প্রাণির জন্য একেবারেই অপ্রতুল। পর্যাপ্ত ধারণ ক্ষমতা নেই। এরপরও এগুলোকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা চলছে। এ প্রাণিগুলো তুরস্ক, ব্রাজিল, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের।’
পার্কের বন্যপ্রাণী সুপারভাইজার আনিসুর রহমান বলেন, ‘এদের মধ্যে কমন মারমু মাঙ্কিসেট, লেমুর, ব্ল্যাক ক্যাপ কুনি ও গ্রে কুনি বিশ্বের বিরল প্রজাতির প্রাণী। এ প্রাণীগুলো আমাদের দেশের কোথাও নেই। লাভবার্ডগুলো এখনই তাদের বেষ্টনীতে, আবার আশপাশে উড়ছে। রফতানির উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করায় বেশিরভাগ প্রাণী দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের নিবিড়ভাবে যত্ন নেওয়া হচ্ছে।’








