খুলনা ও যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ব ৯ পাটকলের শ্রমিকরা আবারও আন্দোলনে নামছেন। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরি, পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দসহ ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকরা ৯ সেপ্টেম্বর থেকে রাজপথে নামবেন তারা। বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের আহ্বানে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ, কফিন মিছিলসহ টানা ১৬ দিনের কর্মসূচি সফল করার প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের কার্যকরী আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন জানান, কর্মসূচি অনুযায়ী ৯ সেপ্টেম্বর সব পাটকলে একযোগে গেটসভা, ১০ সেপ্টেম্বর বিজেএমসির অস্থায়ী কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভা, ১২ সেপ্টেম্বর মিলগুলোতে পালা বদলে বিক্ষোভ মিছিল, ১৩ সেপ্টেম্বর রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ সেপ্টেম্বর পিপলস গোল চত্বরে শ্রমিক জনসভা, ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ১৮ সেপ্টেম্বর লাল পতাকা মিছিল, ২০ সেপ্টেম্বর রাজপথে লাঠি মিছিল, ২১ সেপ্টেম্বর এক সঙ্গে নরসিংদী ও খালিশপুরে শ্রমিক সমাবেশ, ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জুট মিলের সামনে গেটসভা ও শ্রমিক বিক্ষোভ, ২৩ সেপ্টেম্বর সারা দেশের পাটকল শ্রমিক নেতাদের হাফিজ জুট মিলে বৈঠক, ২৪ সেপ্টেম্বর আমিন জুট মিলে একই কর্মসূচি, ২৭ সেপ্টেম্বর রাজপথে কফিন মিছিল, ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮ থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত রাজপথ-রেলপথ অবরোধ, ২ অক্টোবর ফের রাজপথ-রেলপথ অবরোধ, ৫ অক্টোবর পিপলস গোল চত্বরে শ্রমিক জনসভা ও পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা।
মো. সোহরাব হোসেন জানান, ‘২০১৩ সালের জুলাই মাস থেকে মজুরি কমিশন ঘোষণার দাবিতে পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছে। সে সময় ১১ দফা দাবি নিয়ে খুলনা যশোর অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক যুগপৎ আন্দোলন করে। প্রধান দাবি ছিল মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন করে তার ঘোষণা করা। এ ছাড়া অন্যান্য দাবি পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, বদলি শ্রমিক স্থায়ীকরণ, খালিশপুর ও দৌলতপুর মিলের শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করে বিজেএমসির অন্যান্য মিলের মতো সুযোগ-সুবিধা প্রদান, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিড্যান্ট ফান্ড, গ্র্যাচ্যুইটিসহ সব পাওনা অর্থ পরিশোধসহ ১১ দফা। বর্তমানে ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের ডাকে দেশের সব পাটকলের সিবিএ-নন সিবিএ নেতারা এক হয়ে গত ৮ আগস্ট ঢাকায় বৈঠক করেছেন। বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী এবং বিজেএমসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে শ্রমিক নেতারা বৈঠক করেন। সেখানে তাদের মজুরি কমিশন, জাতীয় করণ বিল-২০১৮ বতিল, বকেয়া বেতন মজুরিসহ ৬ দফা দারি বাস্তবায়নের লক্ষে সুপারিশ করেছেন। আগামী ১ মাসের মধ্যে উত্থাপতি ৬ দফার কোনও সুরাহ না হলে শ্রমিকদের আন্দোলনের কথা তাদের জানানো হয়েছে।’








