ঈদুল আজহার দিন সড়কে ১০জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে বগুড়ায় পাঁচ জন, বরগুনা ও নীলফামারীতে একজন করে ও কুষ্টিয়ায় তিন জন নিহত হন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
বগুড়া: শেরপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরবাইক আরোহী দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হন। বুধবার (২২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ধুনট-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বোয়ালকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে শামীম রেজা শিপু (২৬) ও একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সোহেল রানা (২৭)। তারা দুই জনই ঢাকার পিপলস্ ইউনিভার্সিটির বিএসসির শিক্ষার্থী।
শেরপুর থানার এসআই পুতুল মোহন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই বন্ধু শিপু ও রানা বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের হাজরাহাটি গ্রামের বাড়ি থেকে মোটরবাইকে বগুড়ার শেরপুরে আত্মীয় বাড়িতে ঈদের দাওয়াতে আসছিলেন। শিপু বেপরোয়া গতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন ও রানা পেছনে বসা ছিলেন। বেলা ১২টার দিকে তারা বগুড়ার শেরপুরের বোয়ালকান্দি এলাকায় ধুনট-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বোয়ালকান্দি এলাকায় পৌঁছলে শিপু নিয়ন্ত্রণ হারান। বাইকটি সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে দু’জনের লাশ নিয়ে গেছেন। মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নেই বলে জানান এসআই।
এছাড়া ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন। বুধবার সকালে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া বাসস্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- অটোরিকশার যাত্রী শাজাহানপুর উপজেলার কাটাবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিকের ছেলে আলিমুদ্দিন প্রামাণিক (৭০), খলিসাকান্দি গ্রামের বাচ্চু প্রামাণিকের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম (৬০) ও মাঝিড়াপাড়া গ্রামের সামছুল হকের ছেলে অটোরিকশার চালক শফিকুল ইসলাম (৪২)। আহত হন খলিসাকান্দি গ্রামের আবদুল খালেকের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৪০)।
শাজাহানপুর থানার এসআই সুশান্ত কুমার সাহা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা ছেড়ে আসা বগুড়াগামী আল-হামরা পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৮৬৩২) বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর এলাকার মাঝিড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি বগুড়া থেকে শাজাহানপুরগামী সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার চালকসহ দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত দুই জনকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তির পর একজন মারা যান। আহত এক নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বাসটি আটক করা সম্ভব হলেও এর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর প্রায় ২০ মিনিট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
বরগুনা: বরগুনায় দুই গাড়ির মাঝখানে চাপা পড়ে সাইফুল নামে ইসলাম পরিবহনের এক হেলপার নিহত হয়েছেন। বুধবার (২২ আগস্ট) সকাল নয়টার দিকে বরগুনা-বেতাগী আঞ্চলিক মহাসড়কের টাউনহল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মো. মাসুদুজ জামান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বাসটি আটক করেছি। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ নিহত সাইফুল বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধাল মোড় গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহনের স্টাফরা গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে ঝগড়া হয়। পরে স্ট্যান্ডে থাকা হানিফ পরিবহনের একটি বাসের চাবি ছিনিয়ে নিতে গেলে চাবিতে হাত দিলে গাড়ি চালু হয়ে সামনের দিকে গেলে সাইফুল দুই গাড়ির মাঝখানে চাপা পড়ে। হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১৪৩৫৬৯ গাড়িটির সঙ্গে শাকের পরিবহনের ধাক্কা লাগলে সাইফুল মাঝখানে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সাইফুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
বরগুনা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাহাবুদ্দিন সাবু বলেন, ‘গাড়ি পার্কিং নিয়ে গাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এসময় রনি নামের একজন হানিফ পরিবহনের গাড়িটির চাবি ছিনিয়ে আনতে গেলে গাড়ি চালু হয়ে অন্য শাকের পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এসময় সাইফুল দুই গাড়ির মাঝে চাপা পড়ে।’
নীলফামারী: নীলফামারী সদর উপজেলায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে আকতারুল ইসলাম (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই যুবক। ঈদের দিন বুধবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ইকু জুটমিল নামক স্থানে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সদর থানার ওসি বাবুল আকতার এ খবর নিশ্চিত করেন।
নিহত আকতারুল ইসলাম সদরের সংগলশী ইউনিয়নের বাদশাপাড়া গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। আহত সফিকুর ইমলাম (৩০) ও সাদেকুল ইসলাম (২২) একই গ্রামের হেফাজুল ইসলামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে ওসি বাবুল আকতার জানান, আজ সন্ধ্যার দিকে তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে সৈয়দপুর যাচ্ছিল। ইকু জুটমিল নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক হতে আসা একটি আটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে মোটরসাইকেল আরোহী তিন জনই সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আকতারুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুই জনকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া সদর ও দৌলতপুর উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার বটতৈল নামক স্থানে ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত টমটমের (ইজি বাইক) দুই জন এবং দৌলতপুরে ট্রাকচাপায় এক শিশু নিহত হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন ও দৌলতপুর থানার ওসি দারা খান এ খবর নিশ্চিত করেন।
ওসি নাসির উদ্দিন জানান, দুপুরে বটতৈলে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে কুষ্টিয়াগামী একটি টমটমকে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে টমটমের ছয় যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে দু’জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে একজন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার শিপন মিয়া (২৮)। অন্যজনের নাম জানা যায়নি। এ দুর্ঘটনায় আহত অন্য চার জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লাশ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
ওসি দারা খান জানান, দৌলতপুরে ট্রাকচাপায় সাহাবুল (১২) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেষ দিনের ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৯ প্রাণ








