বরিশালে লোকসানের মুখে চামড়া ব্যবসায়ীরা

বরিশাল প্রতিনিধি
২৪ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৫১আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৩১

বরিশালের একটি চামড়া পট্টি বরিশাল নগরীর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। শহরের বিভিন্ন অলিগলি এবং গ্রাম থেকে কোরবানির পশুর চামড়া কিনে লাভের আশায় বরিশাল চামড়া পট্টিতে বিক্রি করতে গিয়ে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। ব্যবসায়ীরা জানান, খাসির চামড়া বেচতে গেলে দাম তো দূরের কথা, অনেকে লবণের টাকাও দাবি করেন। তারা বলেন, এবার চামড়ার বাজারের যে অবস্থা তাতে সব খরচ বাদ দিয়ে চালান ওঠে কিনা সন্দেহ। এজন্য মৌসুমি এ ব্যবসায়ীরা ঢাকার ট্যানারি মালিকদের চামড়ার মূল্য নির্ধারণ এবং স্থানীয় আড়তদারদের সিন্ডিকেটকে দুষছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) নগরীর পদ্মাবতী এলাকায় চামড়াপট্টিতে গিয়ে কথা হয় বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শাহিনের সঙ্গে। তিনি জানান, এ বছর মহানগরী ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার পিস চামড়া কেনার টার্গেট রয়েছে তাদের। চামড়ার দাম কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কী করবো ভাই, ঢাকার ট্যানারি মালিকরা তিন বছর ধরে বকেয়া টাকা দিচ্ছেন না। আগের বছরগুলোতে দেওয়া চামড়ার বিপরীতে তারা মাত্র ১০ থেকে ১৫ ভাগ টাকা পরিশোধ করেছেন। বাকি টাকা কবে পাওয়া যাবে তা অনিশ্চিত।’
তিনি অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিকদের কারণে আজ চামড়া ব্যবসা ধ্বংসের পথে। সরকার চামড়া ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা ঋণ দিলেও তারা আমাদের দেনা পরিশোধ করছে না। শাহিন আরও বলেন, ‘এবার সরকার ও ট্যানারি মালিকরা প্রতি বর্গফুট কাচা চামড়া ৩৫ টাকা এবং লবণযুক্ত চামড়া ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী চামড়া কিনে সব খরচ মিটিয়ে লোকসান ছাড়া কিছুই হবে না। তারপরেও এবারে চামড়া কিনছি।’
আলী আহমদ নামে এক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী জানান, বরিশালে পিস হিসেবে চামড়া বেচাকেনা হচ্ছে। গরুর চামড়া বড়, মাঝারি ও ছোট পিস যথাক্রমে ৪৫০ থেকে ৫০০, ৩৫০ থেকে ৪০০ ও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং খাসির চামড়া প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আর বেশ কয়েকজন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে একই তথ্য জানা গেছে। তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘খাসির চামড়া বেচতে গেলে দাম তো দূরের কথা, অনেকে লবণের টাকাও দাবি করেন। তারা বলেন, এবার চামড়ার বাজারের যে অবস্থা, তাতে সব খরচ বাদ দিয়ে চালান ওঠে কিনা সন্দেহ।
প্রতি কোরবানি ঈদকে ঘিরে তারা এই ব্যবসা করেন। আর প্রতিবারই সীমিত লাভ পেলেও এবার লোকসান হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। কারণ, চামড়া কেনা ও যাতায়াতসহ সব খরচ মিলিয়ে চামড়া প্রতি যে খরচ পড়েছে স্থানীয় আড়তদাররা কিনছেন তার থেকে অনেক কম দামে।

/ওআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম