মুন্সীগঞ্জ সদরের শিলই গ্রামে অজ্ঞাত এক পুরুষ (২২) এবং বাইন্নাবাড়ি এলাকায় পলি আক্তার রিতা (৩০) নামের এক নারীর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের পিবিআই কার্যালয়ের সভাকক্ষে দুটি হত্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা। তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের ক্লু মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে উদঘাটন করা হয়েছে।
পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা জানায়, বৈধ পথে ভারতে গিয়ে পালিয়ে অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসে শফি কাজী। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অজ্ঞাত এক যুবককে হত্যা করে আবার ভারতে পালিয়ে যায় সে। পরবর্তীতে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসে।
পুলিশ আরও জানায়, ২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদরের শিলই গ্রামে অজ্ঞাত পুরুষের (২২) গলাকাটা মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহের পাশে দুটি মামলার ডকুমেন্ট পাওয়া যায়। সাত মাস পর জেলা পুলিশ থেকে পিবিআই'তে মামলা হস্তান্তর করলে মুন্সীগঞ্জ পিবিআই মামলাটির তদন্তের শুরু করে। এরপর কয়েক মাসের মধ্যেই মূল কারণ উদ্ঘাটন করে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শফি কাজী (৪২) নামে একজনকে আটক করে। পরে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। একই সঙ্গে হত্যার সঙ্গে আরও চারজন জড়িত ছিল বলে পুলিশকে জানায় শফি কাজী। রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছিল বলে সে পুলিশকে জানায়।
অপর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ বছরের ১৭ মার্চ মুন্সীগঞ্জের বাইন্নাবাড়ি এলাকায় দেহব্যবসার টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় পলি আক্তার রিতাকে (৩০)। পরে দেহ থেকে মাথা আলাদা করে রতনপুর এলাকায় একটি ব্রিজের নিচে ও দেহ ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় রিতা আক্তার ববিতা (৩০) ও তার স্বামী মো. সোহেলকে (৩৫)। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাদিদ জানান, এসব হত্যাকাণ্ড জেলা পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। পরে পিবিআই’র কাছে মামলার তদন্ত ন্যস্ত করা হয়। বিভিন্ন ক্লু ধরে ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়।








