বরিশাল সিটি নির্বাচন (বিসিসি) নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেন্দ্রে জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ‘প্রার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গত ১১ হতে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম দফায় বিসিসি নির্বাচনের মোট ৩০টি কেন্দ্রের অনিয়ম তদন্ত করেছে। দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মোট ২৬টি কেন্দ্রের অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত শেষ করেছে।’
জানা যায়, শুক্রবার ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের দ্বিতীয় দফায় আরও ২৬টি কেন্দ্রে তদন্ত কাজ শেষ করায় বিসিসি নির্বাচনে এ নিয়ে মোট ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৬টি কেন্দ্রের অনিয়মের তদন্ত শেষ করলো কমিশন।
ইসি সূত্রে জানা যায়, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে ওসব কেন্দ্রে আবারও ভোট গ্রহণ হবে কিনা।
এর আগে একটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেন্দ্রের এসডি কার্ড জমা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এছাড়াও নির্বাচনের পর নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ২টি কেন্দ্রে চরম অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিল প্রার্থীরা।
বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের ৪ সদস্যের তদন্ত দল দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার বরিশালে এসে ২৬টি কেন্দ্রের অনিয়মের তদন্ত শুরু করে। তদন্ত দলে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে চলা তদন্ত কার্যক্রমে কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব খোন্দকার মিজানুর রহমান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব মো. ফরহাদ হোসেন, ঢাকার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) সহিদ আব্দুস ছালাম এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (সংস্থাপন-২) মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত দলের একাধিক সূত্র জানায়, অভিযোগ তদন্তের প্রয়োজনে তারা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার তদন্ত চলাকালে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ২টি কেন্দ্রের অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে।
এই ওয়ার্ডের ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকির হোসেন জানান, তার ওয়ার্ডের সরকারি বি এম কলেজের ৭৭ ও ৭৮ নম্বর ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারে অনিয়ম হয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঠেলাগাড়ি (বিসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর) প্রতীকের প্রার্থীকে অনৈতিক সুবিধা দেয়ার জন্য ভোট কেন্দ্রের ভবন পরিবর্তন করা হয়েছে। ৭৭ নম্বর কেন্দ্রে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করে ঠেলাগাড়ি প্রতীকের পক্ষে ভোটে কারচুপি করেছেন। তদন্ত দলকে তিনি লিখিতভাবে এসব অভিযোগ করেছেন।
ইভিএম নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপি নেতা কে এম শহিদুল্লাহ সহিদ।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২) খোন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা তদন্ত করছেন। নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ইভিএম নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।’
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব খোন্দকার মিজানুর রহমান আরও জানান, ‘এসব অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে তারা অভিযুক্ত কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য নিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত অনিয়মগুলো তুলে ধরা হবে।’
নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তদন্ত দল বরিশালে আসলে বৃহস্পতিবার বিকালে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেওয়া ৭৮ নম্বর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচন শেষ হওয়ার দীর্ঘ এক মাস পর ইভিএম-এর এসডি কার্ডটি তাদের কাছে জমা দেন।
প্রিজাইডিং অফিসার সরকারি বরিশাল কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এটিএম কামরুজ্জামান ইভিএম কেন্দ্রের এসডি কার্ড জমা দিলে এ ব্যাপারে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্বাচন কমিশনের তদন্ত দল।
এ ব্যাপারে প্রিজাইডিং অফিসার এটিএম কামরুজ্জামান শুক্রবার রাতে বলেন, ‘ভোট শেষে কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ হতে নিয়োজিত প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা তার কাছ হতে ইভিএম বুঝে নেন। এর আগে ভোট গ্রহণ শেষ হলে নির্বাচনে প্রার্থীদের এজেন্ট এবং ইসি-এর কর্মকর্তাদের কাছে ইভিএম-এর ফলাফলের প্রিন্ট কপি সরবরাহ করা হয়।’ ইভিএম বুঝে নেওয়ার পর ইসি-এর নিয়োজিত কর্মকর্তারাই এসডি মেমরি কার্ড খুলে তার কাছে দিয়ে তা আরও একমাসের জন্যে সংরক্ষণ করতে এবং এরপর ইসিতে জমা দিয়ে দিতে বলেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।








