নারায়ণগঞ্জে আলোচিত স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন সিয়াম হত্যা মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও তিনজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে লাশ গুম করার অভিযোগে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় দেন। রায় প্রদানকালে ৬ আসামির মধ্যে ৫ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত এক আসামি পলাতক রয়েছে।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মেহেদী মন্ডল, হালিম ও আসলাম। বেকসুর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- ফারুক মন্ডল, মেরিনা মন্ডল ও বিপ্লব।
২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার মাসদাইর এলাকায় কবুতর কেনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আদর্শ স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সিয়ামকে ছুরিকাঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মাদকাসক্ত মেহেদী মন্ডল ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে তারা লাশ গুম করলে ঘটনার পরদিন ২৩ নভেম্বর মুন্সিগঞ্জের শান্তিনগর এলাকা থেকে সিয়ামের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত সিয়ামের বাবা মোস্তফা মাতবর ফতুল্লা থানায় বাদী হয়ে উল্লেখিত ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে আসামিদের মধ্যে মেহেদী মন্ডল ও আসলাম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। দেড় বছর তদন্তের পর পুলিশ ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ ২৯ জনকে সাক্ষী ও ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ৫ বছর পর এ রায় প্রদান করেন।
তবে এই রায়ে ‘ন্যায়বিচার পাননি’ উল্লেখ করে উচ্চ অদালতে আপিলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের স্বজনরা। সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী আসামিদের আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন। তিনি বলেন, ‘বাদীপক্ষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’








