মাগুরার খামারিরা ২০ কোটি টাকার অবিক্রীত গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছিল। ফলে বিপুল সংখ্যক গরু অবিক্রীত থেকে গেছে।
জেলা পশুসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কোরবানিকে সামনে রেখে এ বছর ১৩ হাজার ৫০টি গরুকে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। অথচ চাহিদা ছিল এর অর্ধেকেরও কম, ছয় হাজার ২০০।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় চার হাজার গরু এখনও অবিক্রীত রয়ে গেছে, যার দাম প্রায় ২০ কোটি টাকা। ফলে প্রত্যাশা মাফিক গরু বিক্রি না হওয়ায় খামারিরা মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
মাগুরা সদর উপজেলার খামারি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস বলেন, ‘এ বছর আমি ঈদ উপলক্ষে ছয়টি গরু মোটাতাজাকরণের জন্য কিনি। ঈদে আমার তিনটি গরু বিক্রি হয়েছে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। এখন বাকি তিনটি গরুর পেছনে যে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে তা চালিয়ে যাওয়াই আমার পক্ষে কঠিন। উপরন্তু ব্যাংক ঋণ কীভাবে শোধ করবো, তা ভাবতেও পারছি না!’
সদর উপজেলার আঠারখাদা গ্রামের খামারি আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আমি চারটি গরু কিনেছিলাম মোটাতাজাকরণের উদ্দেশ্যে। এরমধ্যে দুটি গরু অবিক্রীত রয়ে গেছে। ঋণের সুদ বাড়ছে আবার আমার বাকি গরু দুটোর পেছনে ব্যয় বাড়ছে। এমতাবস্থায় আমি কী করবো জানি না!’
মাগুরার বেসরকারি সংস্থা পল্লী-প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান পিন্টু বলেন, ‘এ বছর দেশের বাইরের গরু আমদানি করা লাগেনি। কারণ, আমাদের খামারিরা চাহিদার তুলনায় বেশি গরু বিক্রির জন্য তৈরি করেছেন। এ কারণে এবার আমাদের দেশের টাকা আমরা দেশেই রাখতে পেরেছি। তবে যেসব খামারি গরু বিক্রি করতে পারেননি তাদের পাশে সরকারের দাঁড়ানো উচিত। তাদের উৎসাহিত করা না গেলে আগামীতে তারা এ ব্যবসায় আগ্রহী হবে না, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে আগামী ঈদের বাজারে।’
জেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা কানাইলাল স্বর্ণকার বলেন, ‘যেহেতু এবার চাহিদার তুলনায় বাজারে বেশি গরু ছিল, তাই গরু থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে প্রতিদিন বাজারে অসংখ্য গরুর চাহিদা রয়েছে।’ খামারিদের গরুও অবিক্রীত থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।








