মাগুরায় অবিক্রীত গরু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

মাজহারুল হক লিপু, মাগুরা
০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:১২আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১১





মাগুরায় অবিক্রীত গরু নিয়ে বিপাকে খামারিরা মাগুরার খামারিরা ২০ কোটি টাকার অবিক্রীত গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছিল। ফলে বিপুল সংখ্যক গরু অবিক্রীত থেকে গেছে।

জেলা পশুসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কোরবানিকে সামনে রেখে এ বছর ১৩ হাজার ৫০টি গরুকে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। অথচ চাহিদা ছিল এর অর্ধেকেরও কম, ছয় হাজার ২০০।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় চার হাজার গরু এখনও অবিক্রীত রয়ে গেছে, যার দাম প্রায় ২০ কোটি টাকা। ফলে প্রত্যাশা মাফিক গরু বিক্রি না হওয়ায় খামারিরা মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
মাগুরা সদর উপজেলার খামারি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস বলেন, ‘এ বছর আমি ঈদ উপলক্ষে ছয়টি গরু মোটাতাজাকরণের জন্য কিনি। ঈদে আমার তিনটি গরু বিক্রি হয়েছে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। এখন বাকি তিনটি গরুর পেছনে যে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে তা চালিয়ে যাওয়াই আমার পক্ষে কঠিন। উপরন্তু ব্যাংক ঋণ কীভাবে শোধ করবো, তা ভাবতেও পারছি না!’
সদর উপজেলার আঠারখাদা গ্রামের খামারি আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আমি চারটি গরু কিনেছিলাম মোটাতাজাকরণের উদ্দেশ্যে। এরমধ্যে দুটি গরু অবিক্রীত রয়ে গেছে। ঋণের সুদ বাড়ছে আবার আমার বাকি গরু দুটোর পেছনে ব্যয় বাড়ছে। এমতাবস্থায় আমি কী করবো জানি না!’
মাগুরার বেসরকারি সংস্থা পল্লী-প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান পিন্টু বলেন, ‘এ বছর দেশের বাইরের গরু আমদানি করা লাগেনি। কারণ, আমাদের খামারিরা চাহিদার তুলনায় বেশি গরু বিক্রির জন্য তৈরি করেছেন। এ কারণে এবার আমাদের দেশের টাকা আমরা দেশেই রাখতে পেরেছি। তবে যেসব খামারি গরু বিক্রি করতে পারেননি তাদের পাশে সরকারের দাঁড়ানো উচিত। তাদের উৎসাহিত করা না গেলে আগামীতে তারা এ ব্যবসায় আগ্রহী হবে না, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে আগামী ঈদের বাজারে।’
জেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা কানাইলাল স্বর্ণকার বলেন, ‘যেহেতু এবার চাহিদার তুলনায় বাজারে বেশি গরু ছিল, তাই গরু থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে প্রতিদিন বাজারে অসংখ্য গরুর চাহিদা রয়েছে।’ খামারিদের গরুও অবিক্রীত থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

/এইচআই/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম