সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজী হাট খাদ্য গুদাম। ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল ধারন উপযোগী গুদামটির নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কর্মকর্তারা। এছাড়াও সামান্য বৃষ্টিতেই গুদাম চত্বরে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। এতে মালামাল ওঠা-নামা করতে মিল মালিক ও শ্রমিকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
খাদ্যগুদামটির পেছনের দিকের প্রায় ১৫০ মিটার প্রাচীর ভাঙা। ওই অংশটি বাঁশের বেড়া ও কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। গুদামের প্রধান ফটকের অল্প দূরেই মালামাল ওঠানো-নামানোর স্থান। ট্রাক থেকে বস্তাভর্তি চাল গুদামে নিতে শ্রমিকদের কাদাপানিতে একাকার জায়গা পার হতে হচ্ছে। বর্ষাকালে দুরবস্থা চরম আকার ধারন করে।
মহাদেবপুর মিতু চালকলের স্বত্বাধিকারী মোতাহার হোসেন বলেন, ‘গুদাম চত্বর কাদাপানিতে ভরে আছে। অবস্থা এতটাই খারাপ যে ট্রাকচালকরা আসতে চায় না। এলেও অতিরিক্ত ভাড়া চায়। চালের বস্তা কাদাপানিতে পড়ে গেলে নষ্ট হয়ে যায়। শ্রমিকরাও কাদাপানির মধ্যে কাজ করতে চায় না।’
বিসমিল্লাহ অটোমেটিক চালকলের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় গুদামে চালবোঝাই ট্রাক নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন গুদামে চাল ঢোকানো যায় না। তখন চালবোঝাই ট্রাক গুদাম চত্বরে রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু গুদামের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়ায় আমরা দুশ্চিন্তায় থাকি।’
খাদ্য গুদামটিতে ট্রাকে মালামাল ওঠা-নামার কাজ করেন বাচ্চু ওঁড়াও। তিনি বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই গুদামের ভেতরে পানি জমে যায়। ট্রাক চলাচলের কারণে কাদাপানি একাকার হয়ে যায়। পিচ্ছিল কাদার মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। পা পিছলে গেলে অনেক সময় চালের বস্তা নিয়ে কাদার মধ্যে পড়তে হয়। চাল ভিজে গিয়ে নষ্ট হয়।’
গুদামের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাতাজি খাদ্যগুদামের প্রথম ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৮২ সালে। পরে ১৯৯৫ ও ২০০৪ সালে আরও দুটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ৫০০ মেট্রিক টন করে তিনটি ভবনের মোট ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। মাতাজি হাটবাজারে পানি নিষ্কাশনের জন্য তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই। কয়েকটি কাঁচা নালা থাকলেও ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। এতে পানি নিষ্কাশনে বিঘ্ন ঘটে। বাজারের প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকার চেয়ে খাদ্যগুদাম চত্বর বেশ নিচু। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। প্রায় ৭ বছর ধরে খাদ্যগুদামের পেছনের অংশের সীমানা প্রাচীর অরক্ষিত অবস্থায় আছে। সমস্যাগুলো সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা সত্ত্বেও কোনও প্রতিকার হয়নি।
খাদ্য গুদামটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জান মোহাম্মদ জানান, ‘এক বছর আগে এখানে দ্বায়িত্বে আসার পর থেকেই খাদ্য গুদামটির এক পাশের সীমানা প্রাচীর ভাঙা দেখছি। এখানে তিনটি গুদামে কোটি কোটি টাকার মালামাল রয়েছে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় সেগুলো অরক্ষিত হয়ে আছে। এছাড়া সামান্য বৃষ্টিতেই গুদাম চত্বরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মালাবোঝাই ট্রাক আসা-যাওয়ার কারণে গুদাম চত্বরের অনেক স্থানের মাটি সরে গিয়ে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের মালামালা ওঠা-নামা করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সালাম বলেন, ‘গুদাম চত্বর নিচু হওয়ায় রাস্তার পানি ভেতরে চলে আসে। এ জন্য গুদাম চত্বর উঁচু করাসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার করা জরুরি। এছাড়াও গুদামের সীমানা প্রাচীরটিও অতি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।’








