কক্সবাজার ও টেকনাফে চিহ্নিত ইয়াবা পাচারকারীদের বানানো ৩০টি প্রাসাদতুল্য বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। গত দুই দিনে কক্সবাজার সদর, রামু ও টেকনাফের ছোট-বড় ৬০টি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি ছিল। এ অভিযানে ১ হাজার ৫ পিস ইয়াবা বড়ি, ইয়াবা বিক্রির ২৯ লাখ ১০ হাজার টাকা ও ১৮টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
যেসব বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে সেসব বাড়ির মালিকদের নাম ইয়াবা পাচারকারীদের তালিকায় রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ছয়জন জনপ্রতিনিধি। এর মধ্যে কক্সবাজারের রামু জোয়ারিয়ানালা পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান এম এম নুরুচ ছাফা, হ্নীলার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জামাল হোসেন, একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ নুরুল হুদা, টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ শাহ আলম, সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য এনামুল হক, সাবরাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ইউপির সদস্য রেজাউল করিম রেজুর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোনে খুদে বার্তায় মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল। তিনি জানান, এ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী, বিভাগীয় গোয়েন্দার উপপরিচালক একেএম শওকত হোসেন, জেলা পুলিশের সিনিয়র এএসপি সাইফুল ইসলাম ও টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া।
জেলা মাদক কার্যালয় সূত্র মতে, ইয়াবার বিস্তার ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত টাস্কফোর্সের সভাপতি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন ও গোয়েন্দা) ও ড. এএফএম মাসুম রব্বানীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর একটি দল গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর দুই দিন কক্সবাজার সদর, রামু ও টেকনাফ উপজেলার ছোট-বড় ৬০ ইয়াবা ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালায়। বেশির ভাগ বাড়ি টেকনাফে। ওই অভিযানে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা বিক্রির ২৯ লাখ ১০ হাজার ৭৫৭ টাকা, ১ হাজার ৫ পিস ইয়াবা বড়ি, রামদা ৪টি, কিরিচ ২টি, ছোরা ১০টি ও দামা ২টি।
এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া ফরিদ আহমদ ও কক্সবাজার লাহারপাড়ার লাল মোহাম্মদের স্ত্রী সায়েরা খাতুন। এর মধ্যে সায়েরা খাতুনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ছয় মাসের সাজা প্রদান করা হয়েছে এবং সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
যেসব বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- টেকনাফ পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার রেজাউল করিম রেজা, মোহাম্মদ মোজাম্মেল, মোহাম্মদ জোবাইর, সাবরাংয়ের শামসুল আলম মার্কিন, হ্নীলার হাসান আবদুল্লাহ, মো. সাইফুল, পুরান পল্লানপাড়ার শাহ আলম, নাজিরপাড়ার জিয়াউর রহমান, শাহপরীর দ্বীপের আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া। এছাড়া কক্সবাজারের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লারপাড়ার মোহাম্মদ শাহাজাহান আনসারী ও তার দুই ভাই রশিদ আনসারী ও আবু সুফিয়ান আনসারীর বাড়ি।
বুধবার দুপুরে জানতে চাইলে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল বলেন, ‘মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে কক্সবাজারের তিনটি উপজেলায় শীর্ষ মাদক ও চোরাচালানকারী ৬০ জনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি বাড়ি রাজপ্রসাদের মতো ছিল।’
তিনি বলেন, ‘মনে হয় এরকম বাড়ি ঢাকা গুলশান বনানিতেও নেই। ওইসব বাড়ির জিনিসপত্র দেখে মনে হলো বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। এমনকি প্রবেশ পথে পর্যন্ত ফ্যান লাগানো। এইগুলো রাজপ্রসাদ বললে ভুল হবে, এসব ইয়াবাপ্রসাদ। কারণ ইয়াবার টাকায় এসব বাড়ি বানানো হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘ইয়াবার টাকায় টেকনাফে অনেকে রাজপ্রসাদের মতো বাড়ি বানিয়েছেন। তার মধ্যে ইয়াবা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান ও জোবাইরের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তাদের বাড়ি দেখলে মনে হয় কোনও রাজার বাড়ি। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
আরও পড়ুন-
‘রাজপ্রাসাদে’ ফিরছে ‘রাজা’
‘রাজপ্রাসাদ’ ছেড়ে পালিয়েছে ইয়াবা ‘বাবা’রা








