সেনাবাহিনীর ল্যান্স করপোরাল সাইফুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মানববন্ধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ওই সেনা সদস্যের নিজ গ্রাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের স্কুল মোড়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন, ইউপি সদস্য এনামুল হক ডালু ও আমিরুল ইসলাম, সাবেক মেম্বর শুকদেব কর্মকার,‘বঞ্চিতজন’ সংগঠনের চেয়ারম্যান আনোয়ার পাশা বিদ্যুৎ, নিহত সেনা সদস্য সাইফুলের পিতা হাবিজুদ্দীন হাবু, আওয়ামী লীগ নেতা মিঠুন জোয়ারদার, আঞ্চলিক ভাষা গ্রুপের ঢাকা অফিসের কর্মকর্তা সুজয় কর্মকার, সাফওয়ান আবদুল্লাহ, তন্ময় চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ ঘোষ, সাগর হোসেন ও হাজরা গ্রামের শহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা নিহত সাইফুল ইসলামকে নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের মানুষ উল্লেখ করে বলেন, এই খুনে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এলাকার মানুষ দ্রুত বিচার দেখতে চায়।
সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন বলেন, ‘এ ঘটনার পর পুলিশ যথেষ্ট তৎপর। তারা হত্যার ক্লু ও মোটিভ উদ্ধার করেছে। এখন সব আসামি গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’ নিহত সেনা সদস্য সাইফুলের পিতা হাবিজুদ্দীন হাবু আহাজারি করে বলেন, ‘কী অপরাধ করেছিল আমার সন্তান? কেন তাকে নির্মমভাবে ঈদের আগে হত্যা করা হলো? তার দুই সন্তানের দিকে আমি তাকাতে পারি না।’ তিনি সন্তান হত্যার বিচার চান।
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় স্থানীয় বদরগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হাওনঘাটায় ৬-৭ জন ডাকাত জাম গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে গতিরোধ করে। এ সময় ডাকাতদের সঙ্গে সাইফুলের বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে ডাকাতরা তাকে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ এ ঘটনায় বংকিরা গ্রামের আকিমুল, চুয়াডাঙ্গার ভুলটিয়া গ্রামের ডালিম ও সদরের বোড়াই গ্রামের মিজানুর রহমান মিজারকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে আকিমুল ঘটনায় জড়িত বলে ১৬৪ ধারায় জবাবনবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মহসিন এ তথ্য জানিয়েছেন।








