নরসিংদীর শিবপুরে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যসহ চার জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর উপজেলার চৈতন্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন– ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল বেলাল মিয়া (৩০) ও মাহবুব মিয়া (৩২), চৈতন্যা এলাকার খোরশেদ মিয়ার ছেলে ওহিদুল্লাহ (৩০) এবং বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোহন মিয়া (৪০)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ইটবাহী একটি ট্রলি মহাসড়কে উঠলে ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ট্রাফিক পরিদর্শক জুলহাসের নেতৃত্বে একটি দল সেটিকে আটকায়। এ সময় পুলিশ ট্রলিচালককে মারধর করলে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন হাইওয়ে পুলিশ সদস্য বেলাল ও মাহবুবকে আটক করে মারধর করে এবং তাদের সরকারি রাইফেল ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের আরেকটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আটক পুলিশ সদস্যদের ছাড়িয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাটি শিবপুর মডেল থানাকে জানালে থানা পুলিশ ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র উদ্ধার করে।আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ সময় দুই এলাকাবাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে দাবি করে স্থানীয়রা। তবে গুলি ছোড়ার ঘটনা অস্বীকার করছে পুলিশ। আহতদের শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরাও।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘আহতদের কারও শরীরে গুলির কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রলি আটকের ঘটনা নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ চার জন আহত হয়। সংঘর্ষের সময় এলাকাবাসী পুলিশের দুটি অস্ত্র ছিনতাই করেছিল। আমরা তা উদ্ধার করে তাদের হাতে হস্তান্তর করেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’








