চিড়িয়াখানা নাকি কারাগার?

লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:০০আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:১৫

চিড়িয়াখানা নাকি কারাগার?

ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানার পর দেশের একমাত্র সরকারি চিড়িয়াখানা হলো রংপুর চিড়িয়াখানা। তবে প্রতিষ্ঠার পর গত ৩০ বছরেও এই চিড়িয়াখানার কোনও উন্নয়ন হয়নি। বছরের পর বছর ধরে পুরনো ও জরাজীর্ণ খাঁচায় পশু-পাখিগুলোকে রাখা হচ্ছে যা এতো বছরেও সংস্কার করা হয়নি। পশু-পাখি চলাচলের স্থানগুলো ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়লেও তা সংস্কারে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দর্শনার্থীদের অভিযোগ। এছাড়াও প্রয়োজনের চেয়ে কম ও নিম্নমানের খাবার দেওয়া, চিকিৎসার অভাবসহ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা সিংহ দম্পতিসহ বেশ কিছু প্রাণী মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

১৯৯১ সালে রংপুর শহরের হনুমানতলা এলাকায় ২২ দশমিক ২৭ একর জমির ওপর রংপুর চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হয়। এই চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা যায়, এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, চিতা বাঘ, ভালুক, জলহস্তি, ডোরাকাটা হায়না, ওয়াটার বাক ও হরিণসহ বিভিন্ন ধরনের ও বেশকিছু বিরল প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ময়ুর, ময়না, ঈমু, কেশওয়ারি ঈগল, বাজপাখি ও হরিয়ালসহ অনেক পাখি। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রয়েল বেঙ্গল টাইগার গত ২২ বছরে ২২টি বাচ্চা প্রসব করেছে। সিংহ দম্পতিও ৬টি বাচ্চা প্রসব করেছে। অথচ দীর্ঘদিনেও বাঘ সিংহসহ অন্যান্য প্রাণীর বসবাসযোগ্য কোনও ঘর তৈরি করা হয়নি। তার ওপর বিরল প্রজাতির প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় এরমধ্যেই অনেক প্রাণী মারা গেছে।

চিড়িয়াখানা নাকি কারাগার?

অপরদিকে এ চিড়িয়াখানায় বাঘ ও সিংহসহ অনেক দুর্লভ প্রাণী বাচ্চা প্রসব করার পর সেগুলো ঢাকার চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু সে জায়গায় নতুন করে কোনও প্রাণী আনা হয়নি। ফলে দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকলেও তার সঙ্গী নেই।

সরেজমিনে চিড়িয়াখানায় গিয়ে এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রংপুর চিড়িয়াখানায় প্রাণীদের জন্য মানসম্পন্ন কোনও পরিবেশ নেই। দুর্গন্ধের জন্য বাঘ-সিংহের খাঁচার কাছে যাওয়া যায় না। অনেক প্রাণীর খাঁচা খালি। প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে, অথচ কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

চিড়িয়াখানা নাকি কারাগার?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানান, চিড়িয়াখানায় খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করছে। এমনকি বরাদ্দের মাংসও ঠিকমতো সরবরাহ করে না তারা। প্রতিবাদ করলে অন্য জায়গায় বদলি করে দেওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে চিড়িয়াখানায় সার্বক্ষণিক কোনও চিকিৎসক না থাকায় অসুস্থ প্রাণীগুলোর যথা সময়ে চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. জসীম উদ্দিন সিংহ দম্পতি ও ময়ুরসহ বিরল প্রজাতির প্রাণী মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সিংহ দম্পতি বার্ধক্যজনিত কারণে কয়েক বছর আগে মারা গেছে। এখন বাঘিনী আছে। কিন্তু তার সঙ্গী নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, ‘এসব ডাহা মিথ্যা।’

 

 

/জেবি/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম