বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি আজও বন্ধ

বেনাপোল প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৩৩আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৩৫

বেনাপোল স্থলবন্দর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য খালাসে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ব্যবসায়ীরা পণ্য প্রবেশ বন্ধ করে ধর্মঘটের ডাক দেয়।
সূত্র জানায়, পেট্রাপোল বন্দরের কিছু ট্রাক মালিক ও শ্রমিক নেতা পরিকল্পিতভাবে বেনাপোলে পণ্যজট দেখিয়ে সিন্ডিকেট করে ট্রাকের ক্ষতিবাবদ প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করতো। এর ফলে একেকটি ট্রাক পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে পৌঁছতে সময় লাগতো ১৫ থেকে ২০ দিন। বর্তমানে বেনাপোল বন্দরে কোনও পণ্যজট না থাকায় প্রতিদিনের ট্রাক প্রতিদিন আসছে।
পেট্রাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে বাণিজ্যিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানে আমদানি পণ্য খালাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহনশীল পর্যায়ে লেনদেনে উভয়পক্ষের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরে বেনাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে থাকেন বলে তারা অভিযোগ তোলে। এতে ভারতীয় ব্যবসায়ী ও ট্রাক শ্রমিক নেতারা প্রতিবাদ জানিয়ে এ পথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেন। বেনাপোলের বিপরীতে পেট্রাপোল বন্দরে মাইক লাগিয়ে তারা সভা সমাবেশও করছেন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন বলেন, আমদানি পণ্য খালাসে তারা নিয়ম মেনেই ভারতীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে খরচের টাকা নিয়ে থাকেন। বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন। পরিকল্পিতভাবে তারা নানাভাবে আমদানি-রফতানি ব্যাহত করতে এসব সমস্যা সৃষ্টি করছে।
বেনাপোল কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা অলি উল্লাহ জানান, শনিবার সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবে আমদানি-রফতানি চলছিল। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। লোকমুখে জেনেছেন, পণ্য খালাসে লেনদেন নিয়ে ভারত থেকে কোনও পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে ঢুকছে না। পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য দিলে তারা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছেন।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বলেন, এ পথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বেনাপোল ও পেট্রাপোল উভয় বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকা রয়েছে সহস্রাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। এর মধ্যে মেশিনারি, গার্মেন্ট সামগ্রীর কাঁচামালের পাশাপাশি মাছ, পানসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্যও রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ব্যবসায়ীদের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক, অতিরিক্ত দায়িত্ব) আমিনুল ইসলাম জানান, আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানামা স্বাভাবিক রয়েছে। বাণিজ্য সচল করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

/ওআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি