জয়পুরহাটে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গণসংযোগে মাঠে নেমে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। অন্যদিকে কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় দিন গুনছে প্রশাসনের চাপে থাকা বিএনপি। জেলায় বড় দুটি দলে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও জাতীয় পার্টির রয়েছে একক প্রার্থী। এর বাইরে জামায়াত বা অন্যান্য দলকে নির্বাচনী প্রচারণায় এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা ভারি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। দলের বর্তমান দুই এমপির পাশাপাশি আরো প্রায় হাফ ডজন নবীন-প্রবীণ নেতা গণসংযোগ করছেন। সে তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে বিএনপি। তাদের দু-একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে গণসংযোগ শুরু করলেও পুলিশি বাধায় ছন্দপতন ঘটছে। আবার কেন্দ্রের গ্রিন সিগন্যাল পেতে অনেকে ঢাকায় দৌড়-ঝাঁপ করছেন।
জয়পুরহাটের দুটি আসনই ১৯৯১ থেকে ২০০৮-এর নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপির দখলে ছিল। সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনেই বিনাভোটে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। তাই এবারও আসন দুটি ধরে রাখতে চান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। আর হারানো আসন পুনরায় দখলে নিতে প্রস্তুতি চলছে বিএনপির নেতাকর্মীদের।
আওয়ামী লীগ
জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি): জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগ বর্তমানে দুটি ধারায় বিভক্ত। জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত দ্বন্দ্ব-বিরোধে আক্রান্ত দলটি। নেতৃত্ব বিভক্ত হলেও জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক আছেন একই গ্রুপে। আর অন্য গ্রুপে আছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত জেলা কমিটির বেশির ভাগ নেতা। দলটির মধ্যে বিভক্তির কারণে দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিরাজমান। তারপরও নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগ করছেন জেলা সভাপতি সামছুল আলম দুদু। তিনি এ আসনের দশম সংসদ নির্বাচনে বিনাভোটে এমপি নির্বাচিত হন। এ আসনে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে গণসংযোগ করছেন দলের প্রায় হাফ ডজন নবীন ও প্রবীণ নেতা। তাদের মধ্যে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল পিপি, স্থানীয় দোগাছি ইউনিয়ন পরিষদের পর পর দু’বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জয়পুরহাট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম,পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব,জয়পুরহাট পৌরসভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তৌফিদুল ইসলাম বুলবুল।
জয়পুরহাট-২ (কালাই ক্ষেতলাল আক্কেলপুর) : এ আসনে আওয়ামী লীগের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করে বিএনপি প্রার্থীর কাছে সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। পরে দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনাভোটে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি গত পাঁচ বছরে জয়পুরহাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেন। নানা কারণে নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। জেলা কমিটির সভাপতি সামছুল আলম দুদু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলীর সঙ্গে দূরত্ব থাকায় তাদের অনুসারীদের সঙ্গে স্বপনের দৃশ্যমান বিভাজন আছে। তবে দলটির বৃহৎ অংশ এবং সাধারণ মানুষ মনে করে এলাকার উন্নয়ন আর কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ায় তিনিই হবেন এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে গণসংযোগ করছেন আরো দুজন। তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক তাজমহল হীরক।
বিএনপি
জয়পুরহাট-১ : এক সময় জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি এখন নেতৃত্ব কোন্দলে অনেকটাই বিপর্যন্ত। নেতৃত্ব বিভাজনে ক্ষোভ আছে দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে। তবে কেন্দ্র থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মণ্ডলকে নিয়োগ দেওয়ার পর সেই কোন্দল এখন অনেকটাই ধামাচাপা পড়েছে। তিনি নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করে দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন। নেতা-কর্মীরা মনে করছেন নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হবেন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত আবদুল আলীমের ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফয়সাল আলীম, জয়পুরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাফিজুর রহমান পলাশ ও বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ রানা প্রধান।
জয়পুরহাট-২ : এখানে বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে মাঠে গণসংযোগ করছেন। এছাড়া দলছুট নেতা সাবেক হুইপ আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমানও এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এলডিপি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে তিনি লবিং করছেন বলেও শোনা গেছে।
জাতীয় পার্টি
দশম সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসনে নির্বাচন করার জন্য গণসংযোগ করছেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আ স ম মোক্তাদির তিতাস। আর জয়পুরহাট-২ আসনে গণসংযোগ করছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী আবুল কাশেম রিপন। জেলার দুটি আসনেই জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী গণসংযোগ করছেন।
জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৬ হাজার ২০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৭ এবং নারী ভোটার ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭১৯ জন। জেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২৪৯টি।








