বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, লাইব্রেরি, খেলার মাঠ ও শৌচাগার নেই। শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষকরা বাধ্য হয়েই খোলা মাঠে ক্লাস নিচ্ছেন। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা অবিলম্বে ৭৭ বছরের প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠের সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দীর্ঘদিনের পুরনো এই বিদ্যালয়টিতে সরকারিভাবে উন্নয়নের কোনও ছোঁয়া লাগেনি। চারতলা পাকা একটি ভবনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন স্থানে তদবির করে ফল পাওয়া যায়নি।বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে দ্রুত পাকা ভবন নির্মাণ করা জরুরি। এ বিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী শরিফ উদ্দিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৪১ সালে প্রায় ১ একর ১৮ শতক জায়গার উপর কোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। শুরুতে বিদ্যালয়টি ইংরেজি মাধ্যম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তৎকালীন ভারতের জলপাইগুড়ি বিভাগের আওতায় বিদ্যালয়টি পরিচালিত হতো।১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক মঞ্জুরী লাভ করে। ১৯৬৯ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ের মঞ্জুরীপ্রাপ্ত হয়। ১৯৯৫ সালের ১ জুন বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর)সরেজমিন দেখা গেছে,বিদ্যালয়টিতে ৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে টিনের ছাউনি দেওয়া ভবনের পাঁচটি কক্ষে পাঠদান চললেও ১৯৯৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ দুই কক্ষ বিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মাণ করে। বর্তমানে এ ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থানের পঁলেস্তারা উঠে গেছে। ছাদের পঁরেস্তারা উঠে রড বেরিয়ে রয়েছে। দরজা ও জানালার অবস্থাও করুণ। ফলে ২০১৬ সালে এই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বিদ্যালয়টির ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দুশো জন। শিক্ষক ১১ জন আর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন ৪ জন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরাজ উদ্দিন মিঞা শ্রেণিকক্ষের সংকটের কথা উল্লেখ করে জানান, প্রায় ৭৭ বছরের পুরনো এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিনেও সরকারি কোনও অনুদান পায়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের আওতায় দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বর্ষাকালে ও প্রখর গরমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এরপরও জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাসের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং নির্ধারিত সময়ে পাঠদান শেষ করতে বাধ্য হয়েই খোলা আকাশের নিচেই ক্লাস নিচ্ছেন। স্কুলের মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগও পাচ্ছে না।








