২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে উসকে দেওয়া উত্তম বড়ুয়া এখনও নিখোঁজ। ছয় বছর আগের এই দিনে উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুকে একটি ছবি ট্যাগ করাকে কেন্দ্র রামু উপজেলায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতকারীরা। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়া উত্তম বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে সে খবর এখনও জানে না তার পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ওইদিন রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর টেকনাফ ও উখিয়ায় একইভাবে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
উত্তম বড়ুয়ার স্ত্রী রিতা বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্বামী বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তা তিনি জানেন না। এক সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকছেন। সংসার চলে ভাইয়ের সহযোগিতা ও শিক্ষকতার সামান্য বেতন নিয়ে। একমাত্র ছেলে রামু খিজারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। খুব কষ্টে তার সংসার চলছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মনসুর বলেন, ‘দীর্ঘ ছয় বছর পার হলেও এখনও উত্তম বড়ুয়ার খোঁজ মেলেনি। তবে তার মা ও স্ত্রী সন্তানরা এখনও রামুতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও উত্তম বড়ুয়া সম্পর্কে কেউ খোঁজ দিতে পারেনি।’
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এ পর্যন্ত কোনও সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পরিবারসহ স্থানীয় কেউ জানে না উত্তম বড়ুয়া কোথায় আছে। ঘটনার পর থেকে তাকে ধরার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর। যেহেতু সবকটি মামলার চার্জশিট হয়ে গেছে, বেঁচে থাকলে একদিন না একদিন তাকে ধরা পড়তেই হবে। তাকে খুঁজে পেলে বিচারাধীন মামলাগুলো সচল হবে।’
উল্লেখ্য, উত্তম বড়ুয়া কক্সবাজারের রামু উপজেলার সদরের চেরাংঘাটা এলাকার মৃত সুদত্ত বড়ুয়ার ছেলে। তার বাবা বেঁচে নেই। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে উত্তম কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা করলেও কাজ করত দলিল লেখকের সহকারী হিসেবে। সে রামু উপজেলা আদালতের সুবল মুন্সীর (দলিল লেখক) অধীনে কাজ করত। রামু চৌমুহনী এলাকার প্যারাগন মার্কেটের দোতলায় তাদের কম্পিউটারের দোকান। উত্তম বড়ুয়ার পরিবারে মা ও ভাইবোনসহ ৪ জন সদস্য রয়েছে।
ওই ঘটনায় রামু, উখিয়া ও টেকনাফে এজাহারভুক্ত ৩৭৫ জনসহ ১৫ হাজার ১৮২ জনকে অভিযুক্ত করে ১৯টি মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে এসব মামলায় ৯৪৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এর মধ্যে অভিযোগপত্রে রামুর ৮টি মামলায় অভিযুক্ত করা হয় ৪৫৮ জনকে। অপর ১০টি মামলারও চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয় ৪৮৭ জনকে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বাদি হয়ে একজনের দায়ের করা একমাত্র মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।







