লক্ষ্মীপুরে বিমানমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালের মার্কেটের সৌন্দর্য রক্ষার্থে ব্যবসায়ীদের দোকান উচ্ছেদ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। শনিবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে একদল দুর্বৃত্ত সংঘবদ্ধ হয়ে ওই দোকান ভাঙচুর, মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আরো ৩টি দোকান উচ্ছেদ ও পরে ২৪ সেপ্টেম্বর সড়ক ও জনপথের (সওজ) রোলার দিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ করেন তারা। এর প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে শহরের চকবাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট সংলগ্ন বিমানমন্ত্রীর মার্কেটের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারবর্গ। এ বিষয়ে প্রশাসন বা বিমানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দীর্ঘ ৩০-৪০ বছর যাবৎ তারা জেলা পরিষদ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে এখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিছুদিন আগে বিমানমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল তাদের বন্দোবস্ত নেওয়া জায়গার ওপর একটি বহুতল মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন। মার্কেটটি নির্মাণ এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে অজ্ঞাত কারণে জেলা পরিষদ হঠাৎ করে তাদের খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিনা নোটিশে অন্যায়ভাবে তাদের বন্দোবস্তকৃত ৩টি দোকান উচ্ছেদ করে। এরপর গতকাল রাত দুইটার দিকে একদল দুর্বৃত্ত ‘মেগা কালেকশান-৮’ নামে আরো একটি দোকান ভাঙচুর করে মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এর জন্য বিমানমন্ত্রী ও তার সমর্থিত ছাত্রলীগকর্মীদের দায়ী করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিমানমন্ত্রীর ভাতিজা জিয়াউল করিম নিশান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দোকান উচ্ছেদ ও ভাঙচুরের ব্যাপারে ছাত্রলীগ জড়িত নয়। দোকান উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। রাতের আঁধারে কে বা কারা দোকান লুট করেছে সে জন্য ছাত্রলীগ দায়ী নয়।’
লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু এ ঘটনার প্রতিবাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আর যদি একটি দোকান লুট বা অবৈধভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয় তাহলে আমরা লক্ষ্মীপুরের সকল দোকানপাট বন্ধ করে দেব। আর ছাত্রলীগের জড়িত থাকার বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।’








