দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, এতে করে প্রায়ই সড়কগুলোতে ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হিলির জালালপুর থেকে গোহাড়া হয়ে রাঙ্গামাটি হয়ে ছাতনি চার মাথা পর্যন্ত সড়ক এবং হাসপাতাল মোড় থেকে চণ্ডিপুর হয়ে ইসমাইলপুর পর্যন্ত সড়কটি এবড়ো থেবড়ো হয়ে পড়েছে। এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে।
স্থানীয় জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে রাস্তাটি এই অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আমরা রাস্তা করার জন্য চেয়ারম্যানকে ভোট দিলাম, ভোটের আগে চেয়ারম্যান আমাদের জানালো যে- আপনারা আমাকে ভোট দেন, টাকা এসে গেছে, আমি নির্বাচিত হয়ে এই রাস্তা করে দেবো। আজ প্রায় ১৫ বছর হতে চললো কোনও চেয়ারম্যান রাস্তাটি করার কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা পৌরসভার ট্যাক্স দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের এই রাস্তা আর ঠিক হচ্ছে না। আমরা কোনও ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের এমন অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে যা বলে প্রকাশ করা যাবে না। রাস্তাতে চলতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভাঙা সড়কে চলতে প্রায়শই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।
স্কুল ছাত্ররা জানান, এই ভাঙা সড়কের কারণে বিদ্যালয়ে যেতে খুব সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতেও পারে না তারা। সাইকেল নিয়ে এই পথে স্কুলে যেতে সাইকেল নষ্ট হয়ে যায়। সাইকেল মেকারের নিকট ঠিক করে আসতে আসতে আবার এই রাস্তার কারণে লিক হয়ে যায়। একারণে বিদ্যালয়ে যেতে অনেক সময় দেরি হয়। তাই শিক্ষকদের কাছ থেকেও বকা খেতে হয়।
ভ্যান ও ইজিবাইক চালকরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এই রাস্তাগুলোর অবস্থা এতো খারাপ যে- বলে বোঝানো সম্ভব না। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যে টাকা আয় হয়, দিন শেষে ভ্যান ঠিক করতেই ইনকামের সব টাকা প্রায় শেষ হয়ে যায়। আমাদের খরচের টাকা আর জোটে না। সড়কে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পড়ে প্রায়শই নানা ধরনের সমস্যা পড়তে হয়। আর রাস্তা খারাপরে কারণে যাত্রীরাও ভ্যানে উঠতে ভয় করে, একই অবস্থা ইজিবাইক চালকদেরও।
হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের রাস্তাগুলো আসলেই অনেক খারাপ হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিলি হাসপাতাল থেকে ইসমাইলপুর পর্যন্ত রাস্তাটি এবং জালালপুর থেকে শুরু করে গোহাড়া হয়ে রাঙ্গামাটি হয়ে ছাতনি চারমাথা পর্যন্ত যে রাস্তাগুলো রয়েছে, এই রাস্তাগুলির অবস্থা খুবই খারাপ। এই বেহাল দশা থেকে উত্তোরণের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই প্রজেক্ট সাবমিট করেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়- আমাদের এই রাস্তাগুলোর জন্য বিএমডিএফ থেকে কিছু লোন নেওয়া ছিল, যে লোনগুলো পরিশোধ করা হয়নি। তবে অচিরেই এটির সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী।’








