ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিলুর রহমান মন্টুর কারা হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তি দাবি করে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। রবিবার (৭ অক্টোবর) বিকালে সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের বটতলায় শত শত নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
গত ৪ অক্টোবর রাতে বাসন্ডা ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান মন্টু কারা হেফাজতে বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, একটি চাঁদাবাজি মামলায় মন্টুকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি শহরের আড়তদার পট্টি এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় প্রতিপক্ষের যোগসাজশে মন্টুকে লাঠিপেটা করেন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই ) দেলোয়ার হোসেন। লাঠিপেটায় মন্টুর পা ভেঙে গেলে তাকে বরিশাল শেবাচিমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মন্টু মারা যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন– আবদুল কাদের হাওলাদার, হাফিজুর রহমান, মন্টুর মা নুরজাহান বেগম ও স্ত্রী নাজমা বেগম, মেয়ে সাথী আক্তার, নারী নেত্রী রোজী আক্তার, রুহুল আমিন মাস্টার, আলহাজ নুরুল আমিন বণিক ও মেহেদী হাওলাদার প্রমুখ।
এ ব্যাপারে বাসন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্টু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং নির্বাচিত ইউপি সদস্য। তার বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর জন্য মন্টুর নামে করা মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা দোলোয়ার হোসেন দায়ী। তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি যথাসময়ে চার্জশিট প্রদান করতেন তাহলে মন্টুর এভাবে মৃত্যু হতো না। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং একজন চেয়ারম্যান হিসেবে এর সুবিচার দাবি করি।’
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেলোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রেফতারের সময় পালাতে গিয়ে রিকশা থেকে পড়ে মন্টুর পা ভেঙে যায়। আমরা তাকে চিকিৎসা করিয়ে আদালতে হস্তান্তর করি। আদালতে জেল হাজতে পাঠান। তার পরে কিছু হলে সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।’
মন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় বাসণ্ডা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন এলাকাবাসী। এ সময় বক্তারা এসআই দেলোয়ারের শাস্তি দাবি করেন। এছাড়া মন্টুর নামে দেওয়া চাঁদাবাজি মামলার বাদী ইসহাক তালুকদার ও তার সহযোগীদেরও বিচার দাবি করেন এলাকাবাসী।








