রাজশাহী শহরের একমাত্র সিনেমা হল ‘উপহার’ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন হল কর্তৃপক্ষ। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। জানা গেছে, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে এই প্রেক্ষাগৃহে আর কোনও চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে না।
উপহার সিনেমা হলের ম্যানেজার তাপস কুমার বলেন, ‘আগামী ১২ অক্টোবর থেকে হলটি বন্ধ থাকবে। হলটি কী স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে নাকি সাময়িক বন্ধ থাকবে, সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না। তবে মালিক পক্ষ থেকে শুধু বলা হয়েছে হল বন্ধ রাখার জন্য।’
এই ঘোষণার পর রবিবার (৭ অক্টোবর) থেকে আন্দোলনে নেমেছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এর অংশ হিসেবে হলটিকে বাঁচানোর স্বার্থে সোমবার (৮ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত হল বাঁচানো কর্মসূচি পালিত হয়। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
রাজশাহীর পাঁচটি চলচ্চিত্র সংসদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিকসহ অনেকে।
এ সময় অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক এই হলে তার সিনেমা দেখার স্মৃতিচারণ করে হলটিকে রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
হলটিকে রক্ষায় নবনির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে সঙ্গে নিয়ে সম্ভাব্য সবকিছু করার ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।
‘উপহার’ সিনেমা হল রক্ষার পাশাপাশি ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘অলকা’ হলের স্থানে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ‘সিনেপ্লেক্স’ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক।
জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় বর্তমানে ‘উপহার’সহ চালু আছে মাত্র ছয়টি সিনেমা হল। এরমধ্যে শহরের ভেতরের একমাত্র ‘উপহার’ সিনেমা হলটি আর থাকছে না। বর্তমানে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ‘নার্গিস’, পবা উপজেলার নওহাটায় ‘বাবুল’, তানোর উপজেলায় ‘আনন্দ’, মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে ‘দিগন্ত’, বাগমারা উপজেলায় ‘শাপলা’ সিনেমা হল রয়েছে। ঈদ বা পূজা উপলক্ষে মাঝে মাঝে এসব হলে সিনেমা চালানো হয়। তবে বছরের অধিকাংশ সময়ই তা বন্ধ থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ‘উপহার’ হলের এক কর্মচারী জানান, হলের ব্যবসা ভালো হচ্ছে না বলে হল মালিক সাজিদ হোসেন চৌধুরী জমিসহ ১০ কোটি টাকায় হলটি বিক্রি করে দিয়েছেন। নতুন মালিক এখানে আর সিনেমা হল রাখবেন না। তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হলটির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি ডা. এফএমএ জাহিদ বলেন, ‘এভাবে সব সিনেমা হল ভেঙে ফেলা হলে নতুন প্রজন্ম সিনেমা হল চিনবে না। পরিচয়ও ঘটবে না। তাই ঐতিহ্য হিসেবে হলেও বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে একটি সিনেমা হল বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি ড. সাজ্জাদ বকুল বলেন, ‘একটি বিভাগীয় শহরে একটি সিনেমা হল থাকবে না, এটা ভাবাই যায় না। ব্যক্তিমালিকানা হলেও হল ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে পদক্ষেপ নিতে হবে।’








