গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে মা আম্বিয়া বেওয়াকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছেলে রায়হান আলি ও তার স্ত্রী লাবনি আক্তারের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে (১২ অক্টোবর) দুপুরে পলাশবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মা। পলাশবাড়ি থানা ওসি হিপজুর রহমান মুন্সী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আম্বিয়া বেওয়া কড়িআটা গ্রামের মৃত তালেব মিয়ার স্ত্রী। গত আট বছর আগে এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে মারা যান তালেব মিয়া। স্বামী মারা যাওয়ার পর অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলে ও মেয়েকে বড় করেন আম্বিয়া। মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ছেলেকেও বিয়ে করিয়েছেন প্রতিবেশী লাবনি আক্তারের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয়ে ঝগড়া শুরু হয় ছেলে রায়হান ও তার স্ত্রী লাবনির সঙ্গে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার শাশুড়িকেনির্যাতনের পর ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় লাবনি।
নির্যাতনের শিকার আম্বিয়া বেওয়া বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর বাবার বাড়ির জমি বিক্রি করে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে থেকেছি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে তাদের বড় করেছি। আজ সেই ছেলে বিয়ে করে আমাকে দেখতে পারে না। তারা চায় না আমি বাড়িতে থাকি। প্রথম প্রথম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলেও এখন গায়ে হাত তোলে দুজনই। বাধ্য হয়েই ছেলে ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।’
হোসেনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন তৌফিকুল আমিন মণ্ডল টিটু জানান, ছেলে ও ছেলের বউয়ের নির্যাতনের ঘটনা এলাকার সবারই জানা। ছেলের হাতে জন্মদাতা মায়ের নির্যাতনের ঘটনা অমানবিক। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সতর্ক করার পরও থামেনি তারা। এমন পাষণ্ড ছেলের কঠিন শাস্তি হলে তা দৃষ্টান্ত হবে।
এ ব্যাপারে পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)হিপজুর রহমান মুন্সী জানান, নির্যাতনের বিষয়টির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে দ্রুতই এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পলাশবাড়ি থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এনামুল হক জানান, থানায় লিখিত অভিযোগের পর রায়হান ও তার স্ত্রী বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।








