গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় হাবিবুর রহমান (২৮) নামের এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বাধীন ও এনামুল নামের দুই যুবকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। হাবিবুরের বাড়ির উঠানে প্রকাশ্যে স্বাধীন ও এনামুল তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেছে হাবিবুরের পরিবার। এঘটনায় অভিযুক্ত এনামুলের বাবা হামিদুর রহমান (৫৫) ও এনামুলের স্ত্রী সাথী বেগমকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
নিহত হাবিবুর রহমান এনায়েতপুর দক্ষিণপাড়ার আকবর আলীর ছেলে। হাবিবুরের নিজ বাড়ির অদুরে মুরগি ও মাছের খামার রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হাবিবুর, এনামুল, স্বাধীন ও তার ফুপাত ভাই রাসেল মিলে একটি সমিতি করে। সমিতিতে হাবিবুর ও রাসেল দুজনে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা করে দেয়। এনায়েতপুর বাজারের দৈনিক কিস্তিতে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে দেয় তারা। ওই টাকা দৈনিক আদায় করতো এনামুল ও হাবিবুর। কিছুদিন আগে স্বাধীন ও এনামুলকে ইয়াবা সেবনের সময় পুলিশ আটক করে। কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে স্বাধীন ও এনামুল হাবিবুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে সে তাদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অবিশ্বাস দেখা দিলে হাবিবুর সমিতিতে দেওয়া টাকা ফেরত চাই। তবে স্বাধীন ও এনামুল তা দিতে অস্বীকার করে। এতে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উভয়ের বসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই হাবিবুরকে ঘর থেকে ডেকে বের করে উঠানেই ছুরিকাঘাত করে স্বাধীন ও এনামুল। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
হাবিবুরের বাবা আকবর আলীর অভিযোগ, স্টাম করে সমিতিতে টাকা দেয় হাবিবুর। সেই টাকা ফেরত চাইলে স্বাধীন ও এনামুল অস্বীকার করে। এছাড়া তাদেরকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে হাবিবুরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে স্বাধীন ও এনামুল। বৃহস্পতিবার রাতেও এনায়েতপুর বাজারে হাবিবুরকে আটকের জন্য ধাওয়া করে এনামুল ও স্বাধীন। পরে দৌঁড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে হাবিবুর। এরপর পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে বের করে হাবিবুরকে হত্যা করে তারা। এ ঘটনায় এনামুল ও স্বাধীনসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) এমরানুল কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এনামুলের বাবা ও স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এনিয়ে হাবিবুরের পরিবারের পক্ষে সাদুল্যাপুর থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।








