খুলনা জেলার সর্বদক্ষিণে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষা এবং উপকূলীয় উপজেলা কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসন। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হন। তবে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। প্রার্থিতা পাওয়ার দৌড়ে নতুন মুখের আবির্ভাব হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা রয়েছেন সংকটে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য। ফলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত। ফলে এই সংকটের সুফল ঘরে তুলতে আশাবাদী বিএনপি-জায়ায়াত। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এ আসনে এবারও বিএনপির সমর্থন পেতে পারে জামায়াত। এ আসনটি জামায়াতের ঘাঁটিগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, দশম সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট শেখ নূরুল হক। এবারও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। তিনি দুই উপজেলায় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ করছেন। অন্যদিকে এ আসন থেকেই নির্বাচন করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। এলাকায় তিনি ইতোমধ্যেই জোর প্রচার-প্রচারণাও শুরু করেছেন। যা স্থানীয় আওয়ামী লীগকে দুই ধারায় বিভক্ত করে ফেলেছে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান বাবুও এ আসনে নির্বাচনের জন্য সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় সমর্থন পেতে তিনিও তৎপর।
বিএনপি জামায়াতের তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, এ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে বর্তমান খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রচারণায় রয়েছেন। তাকে ছাড় দেওয়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দোটানায় রয়েছেন। এবার এ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী কয়রা উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. মোমরেজুল ইসলাম। তিনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মাদ সোহরাব আলী সানা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহ রুহুল কুদ্দুসকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মাদ সোহরাব আলী সানা পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ১২১ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহ রুহুল কুদ্দুস পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৬ হাজার ১৬১ ভোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ নুরুল হক বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় এমপি নির্বাচিত হন।
কয়রার বাসিন্দা হারুণ অর রশীদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে খুলনায় রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত ইসলামী বেশ শক্তিশালী। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা একাধিকবার খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে জয়লাভ করেছেন। বিএনপি-জামায়াতের জোটভিত্তিক রাজনীতির কারণেই দলটি সাফল্য পেয়েছে। তবে কয়রা উপজেলায় জামায়াতের বেশ শক্ত অবস্থান রয়েছে। এখানকার স্থানীয় নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাদের ফলাফল ভালো।’
বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট শেখ নুরুল হক বলেন, ‘নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সর্মথন ও পরিচিতি একটা বড় বিষয়। দলীয় তৃণমূলের সমর্থন নিয়েই আমি দলীয় প্রধানের কাছ থেকে মনোনয়ন পেতে আশাবাদী।’
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, ‘মাঠ জরিপ সঠিকভাবে উপস্থাপন হলে আমিই দলীয় মনোনয়ন পাবো। বড় দলে বিভেদ থাকবে। তবে সেটা নৌকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। দলীয় প্রধান যাকে মনোনয়ন দেবেন সবাই তার পক্ষেই মাঠে থাকবে। বিরোধীদের আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই।’
কয়রা উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. মোমরেজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন নির্বাচনের চেয়ে বেগম জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ব্যস্ত সময় পার করছি। তবে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে দলীয় মনোনয়ন পেতে আমি তৎপর থাকবো।’
পাইকগাছা বিএনপি'র সাবেক সভাপতি অ্যাড. জি এ সবুর বলেন, ‘সরকারি দলের টানাপড়েনের সুফল পেতে পারে বিএনপি। তাই নির্বাচনে গেলে এবার বিএনপি প্রার্থী দিতে পারে। আর জোটগত হলে সমঝোতাও হতে পারে। যাই হোক আমরা আাশাবাদী।’
খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কয়রা পাইকগাছার এ আসনটিতে জোটের সমর্থন জামায়াত পেয়ে থাকে। সে হিসেবে জোট নির্বাচনে অংশ নিলে আমাকে নির্বাচন করতে হবে। তাই নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত রাখছি।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সহসভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেলের প্রধান সম্মন্বয়কারী শেখ মুহা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘খুলনা ৬ আসনে আমাদের দলের খুলনা জেলার সভাপতি মাও. গাজী নুর আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি ইতোমধ্যেই নিজ আসন এলাকা কয়রা ও পাইকগাছার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করাসহ চরমোনাই পীরের বাণী সমৃদ্ধ লিফলেট ও হাতপাখার আহ্বান পৌঁছে দিচ্ছেন।’
এছাড়া এ আসন থেকে নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী খুলনা জেলা জাপার সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু। তিনিও নিজ নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণায় রয়েছেন।








