আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় আওয়ামী লীগের ৪ জন তরুণ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এ ৪ জনই অতীতে খুলনায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বর্তমানে তারা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা সংসদ সদস্য পদে খুলনার পৃথক ৩টি আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। এ চার নেতা সেভাবেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ চার তরুণ নেতা হচ্ছেন– সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন, তেরখাদা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জামাল ও মো. আকতারুজ্জামান বাবু।
খুলনার বাসিন্দা এসএম কামাল ছাত্র রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর খুলনায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নেতৃত্বে থাকাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগে যুক্ত হন। ’৭৯-৮০ সালে তিনি সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। খুলনা-৩ আসন (দৌলতপুর-খালিশপুর) থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী কামাল।
এসএম কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,খালিশপুর-দৌলতপুর অঞ্চলে বসবাসরত শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে তিনি কাজ করে আসছেন। খালিশপুর-দৌলতপুর অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বাছাই কমিটির কাছে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে আবেদন জানাবেন।
তেরখাদা উপজেলার নলিয়ার চর এলাকার বাসিন্দা সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু ছাত্র রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি ১৯৭৭ সালে সরকারি ব্রজলাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএল)কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ১৯৭৮ সালে ওই কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।১৯৮০ সালে বিএল কলেজ ছাত্রলীগের নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। তিনি ১৯৯৮ সালে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুব ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, ২০০৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০১৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তেরখাদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি তেরখাদা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং তেরখাদা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।
সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি খুলনা-৪ আসন (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। সে লক্ষ্যে তিনি এলাকায় কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন।
খুলনা মহানগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান জামাল ছাত্রলীগ থেকে রাজনীতি শুরু করেন। পরবর্তীতে যুবলীগের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন। তিনি ১৯৮৮ সালে সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য (কো-অপ্ট), ১৯৮৯ সালে জেলা ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক, ১৯৯৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, ১৯৯৭ সালে জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক, ২০০৩ সালে জেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (প্রথম) নির্বাচিত হন।
কামরুজ্জামান জামাল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি খুলনা-৪ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ লক্ষ্য নিয়ে তিনি রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়াবাসীর জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।
খুলনার রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা আকতারুজ্জামান বাবু ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। পরবর্তীতে যুবলীগ হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন। তিনি ১৯৮৩ সালে মহানগরীর সেন্ট জোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগ শুরু করেন। তিনি ’৮৭-৮৮ সালে বিএল কলেজ ছাত্রলীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, ১৯৯১ সালে রূপসার আইচগাতী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ আহ্বায়ক, পরবর্তীতে রূপসা উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য, রূপসা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক, দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯২ সালে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য, ১৯৯৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৮ সালে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক, ২০০০ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০০২ সালে জেলা যুবলীগের সদস্য, ২০০৩ সালে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।
আক্তারুজ্জামান বাবু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসন থেকে তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি এ লক্ষ্য নিয়েই কয়রা-পাইকগাছার তৃণমূলে নিরলসভাবে কাজ করছেন।








