সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের বেড ও বিছানার চাদরে ঢাকা অজ্ঞাত অসুস্থ্ দুই নারীকে ফেলে রাখা হয়েছে যমুনার তীরে পাউবোর বাঁধে। দুজনের মধ্যে একজন বয়স্ক, কপালের ক্ষতস্থানে সেলাইয়ের চিহ্ন রয়েছে। তার শরীরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতিস্থাপিত ক্যানোলা ও ক্যাথেড্রাল রয়েছে। দুজনের মধ্যে তিনি চোখ ঢেকে রাখলেও নড়াচড়া করছেন। অপরজন মধ্যবয়সী, চুল ছোট করে ছাঁটা। দুজনের কথা অস্পষ্ট। মাঝে মধ্যে শব্দ করলেও তা বোঝা কঠিন।
বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে কে বা কারা ওই দুই নারীকে যমুনার তীরে পাউবোর বাঁধে ফেলে রেখে গেছে তা জানা যায়নি। দুজনের শরীর থেকে পেশাব-পায়খানার গন্ধ আসায় দূর থেকেই ভিড় করে দেখছেন শত শত দর্শনার্থী। পাউবোর শহর রক্ষা বাঁধের দক্ষিণে রাসেল স্মৃতি পার্ক সংলগ্ন পূর্বদিকের রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ওই দুই নারীকে নিয়ে উৎকণ্ঠার কমতি নেই স্থানীয়দের। সন্ধার পর অন্ধকারের মধ্যেও মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে শত শত মানুষ অসুস্থ্ অবস্থায় ফেলে রাখা অসহায় ওই দুই নারীকে দেখে আক্ষেপ করছেন। পুলিশের উপ-পরিদর্শক জিমেল হাসানের নেতৃত্বে সদর থানার একদল পুলিশও দর্শনার্থী হয়ে সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি অবলোকন করার পর তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য বিভাগ ও সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা মোবাইলে সহমর্মিতা ও দুঃখ প্রকাশ করলেও তাদের উদ্ধারে সদর থানা পুলিশ ছাড়া এগিয়ে আসেনি কেউই। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. কাজী মো. শামিম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, নিন্দনীয় এবং অমানবিক। এভাবে কেন ফেলে রাখা হবে। বিষয়টি জানার পর খোঁজ-খবর নিচ্ছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমি এ মুহূর্তে হাসপাতালের বাইরে আছি। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফরিদুল ইসলাম সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বলেন, ‘তারা আমাদের হাসপাতালের রোগী ছিল কিনা বিষয়টি আমরা নিশ্চিত নই। না দেখে বলা যাবে না। তবে, তাদের উদ্ধারের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দাউদ সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে মোবাইলে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আসতে দেরি করায় আমরাই ভ্যানে করে দুজনকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, গত কদিন আগে সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কাদাই গ্রামে কড্ডা-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের একটি ডাস্টবিনের পাশে ওই দুই নারীর একজনকে (আনুমানিক ৬০-৬৫ বছর) অসুস্থ্ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আমরা নিজ উদ্যোগে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে আসি। ওই সময় আমরা হাসপাতালে আরেকজন মধ্যবয়সী অজ্ঞাত নারী রোগীকে দেখতে পাই। হঠাৎ আজকে এভাবে ওই দু’জনকে নদীর পাড়ে পড়ে থাকতে দেখে আমরাও অবাক হয়েছি।








