আশুলিয়ায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত ১৫ অক্টোবর দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাছিরের লোকজনের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্থানীয় নাছিরের লোকজন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনের অডিটোরিয়ামের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত আশুলিয়ার বাইশমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করা হলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।
স্থানীয়রা জানান,শুক্রবার দুপুরের দিকে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের সামনে মোহাম্মদ আলীর লোকজনের সঙ্গে গণ্যস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্টাফদের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এর কিছু সময় পরই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাছির বাহিনীর প্রায় দুইশ’ লোক গণস্বাস্থ্যের পিএইচএ ভবনের ভেতরে হামলা চালায়। এ সময় নাছিরের লোকজন ওই ভবনের অডিউটরিয়মের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এ সময় তারা ওই ভবনের ভেতর থেকে কম্পিউটার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নাছির বাহিনীর লোকজন তাদের মূল ফটক ভেঙে নিয়ে গেছে। এছাড়াও পিএইচএ ভবনে হামলা চালিয়ে সবকিছু ভাঙচুর করে তাদের মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র লুটে নিয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও গণস্বাস্থ্যের বেশ কিছু গাছ কেটে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই বিষয়টি আশুলিয়া থানায় অবহিত করা হয়। তবে পুলিশ আমাদের কোনও সহযোগিতা করেনি। এছাড়াও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শনও করেনি।’
এ হামলার বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাছিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূল ফটকের জায়গার মালিক তিনি। তার জায়গা অবৈধভাবে দখলে রেখেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। নিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের জন্য ওখানকার ফটক খুলে নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে লোকজনসহ সেখানে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক দিপু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’ তবে অভিযোগ আমলে না নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’








