ইলিশের প্রজননকালীন সময়ে নদনদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলমান অবস্থায় ব্রহ্মপুত্র নদে অভিযান চালিয়ে এক লাখ ৬১ হাজার ৮০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ। সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাকালীন ২২ দিনে দুই শতাধিক অভিযানে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এসব জাল জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জেলার সদর, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ২১৩ টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৩টি মোবাইল কোর্টও পরিচালিত হয়। অভিযানে এক লাখ ৬১ হাজার ৮০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এসব জালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এছাড়াও অভিযানে সাড়ে ৫৭ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করে তা বিভিন্ন এতিমখানায় বন্টন করা হয়।
এদিকে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলার সদর, চিলমারী, উলিপুর, রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদে কয়েক হাজার জেলে নিয়মিত জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সরেজমিন অনুসন্ধান ছাড়াও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার অধিবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে।
ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার যাত্রাপুর বাজার, উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লার হাট বাজার, একই উপজেলার সাহেবের আলগা, হাতিয়া, বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন, চিলমারী উপজেলার চিলমারী, নয়ারহাট, অষ্টমীচর, রমনা ও রানীগঞ্জ ইউনিয়ন এবং রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ও কোদালকাটি ইউনিয়নসহ চিলমারী ও রৌমারী নৌ রুটের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে মা ইলিশ ধরে তা প্রকাশ্য বাজারে বিক্রি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জেলা মৎস্য বিভাগের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলার বৃহৎ আয়তনের নদ-নদী জুড়ে ইলিশের বিচরণ ঘটছে। নদীতে পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি অপেশাদার জেলেরাও ইলিশ শিকারের উদ্দেশে নৌকা নিয়ে জাল ফেলছে। নদীতে ইলিশ ধরার জন্য যে বিপুল সংখ্যক নৌকা আর জালের উপস্থিতি সে তুলনায় আমাদের অভিযান পর্যাপ্ত নয়।’
জনবল সংকট এবং অভিযানের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকার কথা জানিয়ে এই মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘জেলার নদ-নদীকে ইলিশ জোন হিসেবে ঘোষণা করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হলেও জেলার জেলেদের জন্য কোনও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়নি। ফলে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার প্রায় দশ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে খাদ্য সহায়তার বাইরে রেখে ইলিশ শিকার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও আমরা সাধ্য মতো চেষ্টা চালিয়েছি।’
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কোনও জেলেকে জেল-জরিমানা দেওয়া হয়নি জানিয়ে এই কমকর্তা আরও বলেন, ‘আগামীতে এ অঞ্চলকে ইলিশ জোন হিসেবে ঘোষণা করলে এলাকার জেলেদের যাতে বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় সেজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এছাড়াও নদীতে নজরদারি বাড়ানোর জন্য জনবল ও অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি নৌযানের ব্যবস্থা করাও প্রয়োজন।’








