কক্সবাজার-২ আসন ধরে রাখতে মরিয়া আ.লীগ, পুনরুদ্ধার চায় বিএনপি

আবদুল আজিজ, কক্সবাজার
৩০ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:০০আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:১৫

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী সিরাজুল মোস্তফা, আনসারুল করিম, আশেক উল্লাহ রফিক, ইসমত আরা বেগম ইসমু, ওসমান গণি, হোসেইন ইব্রাহিম (ছবি– প্রতিনিধি)

দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-২ আসন। জাতীয় সংসদের ২৯৫ নম্বর আসনটি একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক জয়লাভ করেন। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আসনটি ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, হারানো আসনটি ফিরে পেতে চায় বিএনপি।

কক্সবাজার-২ আসনে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে আসছে বর্তমান সরকার। জেলার সব চেয়ে বড় বড় মেগাপ্রকল্প এখানেই বাস্তবায়ন হচ্ছে। মাতারবাড়ীতেই হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদুৎ প্রকল্প। নির্মাণ হচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর। তাই এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের জয়-পরাজয় অনেকটা প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনকে ঘিরে এ আসনে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তুমুল দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক ও জাতীয় পার্টির একজন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে এখনও বিএনপি-জামায়াতকে মাঠে দেখা না গেলেও ভেতরে ভেতরে দল দু’টির নেতাকর্মীরা কাজ করছে বলে জানা গেছে।

এখানে বড় দুই দলে রয়েছেন বেশ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগেই রয়েছেন অর্ধ-ডজন বাঘা বাঘা প্রার্থী। অন্যদিকে, বিএনপিতে রয়েছে দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ায় দলীয় ব্যানারে প্রার্থী হতে না পারলেও নিরবে কাজ করছে দলটির কর্মীরা।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন– মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিক, আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিজ্ঞানী ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহাজোট মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর ড. আনসারুল করিম, মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদ পরিবারের সন্তান হোছাইন ইব্রাহিম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ওসমান গণি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মহেশখালীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার ইসমত আরা বেগম ইসমু, মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ও সরওয়ার আজম এবং জাতীয় পার্টির আলহাজ মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহ (ছবি– প্রতিনিধি)

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে যার নাম শোনা যাচ্ছে তিনি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। জাতীয় পার্টি থেকে ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহ। তিনি এরই মধ্যে মহেশখালী-কুতুবদিয়াতে জাতীয় পার্টিকে নতুনভাবে সাজানোর পাশাপাশি প্রতিনিয়ত গণসংযোগ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। জামায়াত থেকে দলটির কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের নাম শোনা গেলেও মাঠে নেই কোনও কর্মকাণ্ড।

এ আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দলীয় ও সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সে কারণে আসনটির পাড়া-মহল্লা দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর। এখানে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জানান দিতে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিক নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। বসে নেই সাবেক ছাত্রনেতা ওসমান গণি ওসমান; দুই দ্বীপ উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন তিনিও। একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে এখানে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ- সাধারণ সম্পাদক ইসমত আরা বেগম ইসমু।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, ‘মহেশখালীতে দেশের সবচেয়ে বড় কয়লাভিত্তিক বিদুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর, এলএনজি টার্মিনাল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। তাই এ আসনটি আমরা ধরে রাখতে চাই।’

সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ ও আলমগীর ফরিদের মধ্যে শীতল যুদ্ধ থাকায় এখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা দুই ধারায় বিভক্ত। দলীয় কোন্দল মিটাতে পারলে এখানে আলমগীর ফরিদ-ই বিএনপির একমাত্র মনোনীত প্রার্থী হতে পারেন। তবে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘এ আসনে সাবেক যোগাযোগ প্রাতিমন্ত্রী যাকে দেবেন, তিনিই বিএনপির প্রার্থী হবেন।’

দলীয় ব্যানারে জামায়াত নির্বাচন করতে পারলে ২০ দলীয় জোট থেকে আসনটি ভাগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয়ভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। একইভাবে মহাজোট থেকে এ আসন ভাগাতে তৎপর জাতীয় পার্টি। সে হিসাব বা একক নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ।

এক নজরে (২৯৪) কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন

ভোটার সংখ্যা

মোটভোটার– ২৯৬০৮১ জন।

পুরুষ ভোটার– ১৫৩৯৭২ জন।

নারী ভোটার– ১৪২১০৯ জন।

১৯৯১ সালের নির্বাচন

বিএনপি প্রার্থী মো. রশিদ– ২০৫৬৩ ভোট।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাকের উল্লাহ– ৪,৪৬১ ভোট।

জামায়াত প্রার্থী শফিউল্লাহ– ২৩,৩৪৫ ভোট।

বাকশাল প্রার্থী ইসহাক বিএ– ২৫৭২৭ ভোট।

ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী শফিউল আলম– ৫৭৪৭ ভোট।

১৯৯৬ সালের নির্বাচন

আওয়ামী লীগ প্রার্থী সিরাজুল মোস্তফা– ৩২,৪৪৩ ভোট।

বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মো. মাহফুজুল্লাহ ফরিদ– ৪৪,৪৪৫ ভোট।

জামায়াত প্রার্থী শফিউল্লাহ কুতবী– ২১,৮৫৯ ভোট।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম– ৫,৭৯৩ ভোট।

ইসলামী ঐক্যের প্রার্থী আমজাদ আলী– ৩,৬৮৩ ভোট।

সমৃদ্ধ আন্দোলনের প্রার্থী শামিম আরা জলি– ৬০৪ ভোট।

২০০১ সালের নির্বাচন

আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী– ৪৯১৯০ ভোট।

বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মো. মাহফুজুল্লাহ ফরিদ– ১,০৩,৫০৩ ভোট।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদ উদ্দিন ছোটন– ৪২৬ ভোট।

২০০৮ সালের নির্বাচন

আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. আনছারুল করিম– ৮৬,৯৪৪ ভোট।

জামায়াত প্রার্থী এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ– ১,০৩,৯৭১ ভোট।

ইসলামী ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মো. সোলাইমান– ১৩৩৫ ভোট।

গণ ফ্রন্টপ্রার্থী গোলাম মাওলা– ৪৬৭ ভোট।

২০১৪ সালের নির্বাচন

আওয়ামী লীগ প্রার্থী-আশেক উল্লাহ রফিক (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত)।

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম