সিলেট সদর উপজেলার বাদাঘাট এলাকায় নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই হাজার বন্দির ধারণক্ষমতার এই কারাগারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
২০১০ সালে সিলেটে নতুন কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রকল্প একনেকে পাস হয়। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের চেষ্টায় বাদাঘাট এলাকায় চেঙ্গেরখাল নদীর তীরে ৩০ একর জমির এই কারাগার নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্মিত এই কারাগারের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর পরই বন্দি স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে না। সমন্বয় বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরই বন্দি স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
জানা যায়, নতুন কারাগারের নির্মাণকাজ শুরুর পর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত। পরে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তবে এ সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাবিব কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, কৈশলী কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, জেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, ঢালি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও জেবি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আরেক দফা সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময় বেধে দেয় গণপূর্ত বিভাগ। তবু কাজ শেষ না হওয়ায় ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সময় বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বাড়ে। দেড়শ’ কোটি টাকার প্রকল্প ২২৭ কোটিতে গিয়ে ঠেকে।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, ১৭৮৯ সালে সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থল ধোপাদীঘির পাড়ে ২৪ দশমিক ৬৭ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় সিলেট জেলা কারাগার। পরে এটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে এর বন্দি ধারণক্ষমতা একহাজার ২১০ জন। তবে বর্তমান কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে।
আর নগর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বাদাঘাটে ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত আধুনিক কেন্দ্রীয় কারাগারটির বন্দি ধারণক্ষমতা দুই হাজার। নতুন কারাগারের ৩০ একর জায়গার মধ্যে ভেতরের অংশ রয়েছে ১৪ একর জায়গায় এবং বাইরে ১৬ একর জায়গা। কারাগারের বাইরের জায়গায় থাকছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৩০টি ফ্ল্যাট, ক্যান্টিন, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার রুম, এডমিন অফিস, সেন্ট্রাল মসজিদ। এ ছাড়া, স্টিল স্ট্রাকচারড ভবন আছে চারটি, একটি স্কুল। প্রতিটি ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ভেতরের জায়গায় আছে পুরুষ হাজতি, কয়েদিদের জন্য ছয়তলার চারটি এবং নারী হাজতিদের জন্য তিনটি চারতলা ও দুটি দোতলা ভবন।
এ ছাড়া, কারাগারের পশ্চিম পাশে বন্দিদের আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ১০০ শয্যার পাচঁতলা হাসপাতাল, ২০ শয্যার দোতলা মানসিক হাসপাতাল রয়েছে। টিবি রোগীদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ২৫ শয্যার দোতলা টিবি হাসপাতাল। কারাগারের চারপাশে উঁচু সীমানা প্রাচীর ও ভেতরে অভ্যন্তরীণ সীমানা প্রাচীরের কাজ এবং কারাগারের মসজিদ, ক্যান্টিন, তিনটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে এখনও লিংক রোড (রাস্তা নির্মাণ), ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুকুর খনন, এসটিপির কাজ শেষ করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। কারাগারের বিভিন্ন ভবনের অভ্যন্তরীণ দরজা, ভবনের রঙসহ আনুষঙ্গিক অনেক কাজও বাকি রয়েছে।








