গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়ার ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান আরিফকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া তিন বন্ধু। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে পরিকল্পিতভাবে তারা আরিফকে হত্যার পর লাশ পরিত্যক্ত রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
বুধবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান।
ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ চেষ্টার পর প্রযুক্তির মাধ্যমে আরিফ হত্যার মূল আসামি তিন বন্ধুর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আব্দুল হাইকে গোবিন্দগঞ্জ, রাফি ও আল-আমিনকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে আরিফের মোবাইল ফোন ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত গামছা উদ্ধার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ব্যবসায়ী আরিফের সঙ্গে তিন বন্ধু আব্দুল হাই, রাফি ও আল-আমিনের টাকা লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। ঘটনার আগে আরিফ তাদের কাছে টাকা চাইলে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে ঘটনার দিন আরিফকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনে আব্দুল হাই। পরে রাফি ও আল-আমিন দু’জন মিলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে আরিফকে হত্যা করে। এরপর আরিফকে রেললাইনের ওপর ফেলে তারা পালিয়ে যায়।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাহাদত হোসেন বলেন, ‘ব্যবসায়ী আরিফ হত্যার ঘটনায় সাঘাটা থানায় মামলা হয়। হত্যার রহস্য উন্মোচনে তদন্ত করা হয়। পরে প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামিরা আরিফকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। জবানবন্দির জন্য তাদের আদালতে হাজির করা হবে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।’
গত ২১ আগস্ট সকালে বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের পরিত্যক্ত রেললাইনের ওপর আরিফুজ্জামান আরিফের (৩৫) লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ আরিফের লাশ উদ্ধার করে। আরিফের গলা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আরিফ বোনারপাড়া বাজারে ইলেক্ট্রনিক পণ্যের ব্যবসা করতেন। তিনি সাঘাটা উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে।








