তিন লাখ টাকা লেনদেন করে ভর্তি হয়ে এক বছর পর প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে এসে আটক হয়েছে মো. মঈন নামে এক শিক্ষার্থী । রবিবার (৪ নভেম্বর) আইন অনুষদের ৩ নম্বর গ্যালারীতে পরীক্ষা দেওয়ার সময় পরিদর্শকের সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী রবিবার বিকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। আটক মো: মঈনের বাড়ি কক্সবাজার উপজেলায় বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ‘ডি’-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ৭০তম স্থান অধিকার করে এক শিক্ষার্থী। সে শিক্ষার্থী ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া শেষ করলেও তার জায়গায় ক্লাসসহ সকল একাডেমিক কাজে অংশগ্রহণ করতো মঈন। এর প্রেক্ষিতে প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় মঈন নিজের ছবি বসিয়ে ফরম পূরণে করে। কিন্তু রবিবার পরীক্ষা দিতে আসলে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার প্রবেশ পত্রের ছবি বিভাগে সংরক্ষিত ওই বছরের ভর্তির নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে বিভাগ কর্তৃপক্ষ। এতে দেখা যায় প্রথম বর্ষের পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রে লাগানো ছবির কোনও মিল নেই। পরে মঈনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি বলে সে স্বীকার করে। তার বদলে অন্য একজন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এমনকি কে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে সে বিষয়ে ধারণা নেই তার। তবে একটি জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে বলেও স্বীকার করে সে। এমনকি ভর্তি হতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের হোসাইন আল মাছুম নামে এক শিক্ষার্থীকে তিন লাখ টাকা দিয়েছে বলে সে দাবী করে।
প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘আইন বিভাগের প্রথমবর্ষে পরীক্ষার জন্য দেওয়া প্রবেশ পত্রের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভর্তির কাগজপত্র মিলিয়ে দেখা হয়। কিন্তু মঈনের প্রথম বর্ষের পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবির কোনও মিল নেই। পরে তাকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার হয়ে কে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে সেটা সে বলতে না পারলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর সহায়তায় প্রায় তিন লাখ টাকার বিনিময়ে সে ভর্তি হয়েছে। তাকে আমরা পুলিশের হাতে তুলে দিবো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যে শিক্ষার্থী জড়িত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








