গোপালপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং ভূঞাপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে টাঙ্গাইল-২ আসনটি গঠিত। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান। তিনি এই আসনের তিন বারের সংসদ সদস্য হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই তাকে কেন্দ্র করে চলে আসছিল দলীয় কার্যক্রম। অসুস্থতার কারণে তিনি এবার নির্বাচন করবেন না বলে আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে। জানা যায়, তিনি নিজের ছেলেকে উত্তরসূরী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে এবার তার জায়গা দখলে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগের অর্ধডজন প্রার্থী। তাই এই আসনে এবার অনেকেই নৌকা প্রতীক পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় জেল-হাজতে থাকা বিএনপির সাবেক উপমন্ত্রী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু একক প্রার্থী হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তিনিও দলের মনোনয়ন নিয়ে এই আসনে তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, আইনগত বা অন্য কোনও সমস্যা হলে আব্দুস সালাম পিন্টুরই মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত হয়েই আছে। এছাড়া পিন্টুর পরিবারের সদস্যরাই জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকায় দলের সমর্থন তাদের পক্ষেই রয়েছে।
আইনগত কোনও জটিলতার কারণে আব্দুস সালাম পিন্টু একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে না পারলে তার ছোট দুই ভাই কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ সামছুল আলম তোফার মধ্যে যেকোনও একজন দলের মনোনয়ন পাবেন বলেও মনে করেন নেতাকর্মীরা। তবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সেক্ষেত্রে এই আসনে মনোনয়নের ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ সামছুল আলম তোফা অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। আব্দুস সালাম পিন্টু ও তার ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কারাগারে থাকায় তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠেছেন এ এলাকার মানুষ। নির্বাচনে এই সহানুভূতি বিএনপির জন্য ভাল ফল বয়ে আনতে পারে বলেও মনে করেন স্থানীয়দের অনেকে।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম তোফা বলেন, ‘সালাম পিন্টু মন্ত্রী থাকাকালে ভূঞাপুর এবং গোপালপুর উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়মূলক কাজ করেছেন। বিনাকারণে সরকার তাকে কারাগারে বন্দি করে রাখায় এলাকার মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। তার জন্য আপিল করবো, যাতে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।’
এদিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও এই আসনের সাবেক এমপি শামছুল হক তালুকদার ছানু মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে নৌকা প্রতীক পাওয়ার আশায় আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। মনোনয়ন প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল। খন্দকার আসাদুজ্জামান তিন বার এ আসনে সংসদ সদস্য হওয়ায় দুটি উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন এবং এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বাবার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে মনোনয়নের জন্য মাঠে কাজ করছেন খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তরুণ নেতা তানভীর হাসান ছোট মনির মনোনয়নের আশায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টুর রাজনীতি মোকাবিলায় তানভীর হাসান ছোট মনিরকে প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাদের অনেকে। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ও সরকারের নানাবিধ উন্নয়নে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
অপরদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি। তিনি দক্ষ সংগঠক হিসেবে টাঙ্গাইল ও গোপালপুর-ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে চাঙ্গা রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন।
গোপালপুর উপজেলা পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ক্লিন ইমেজের ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
এছাড়াও ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ, কর্নেল (অব.) মির্জা হারুন-অর-রশিদ, ড. নুরুননবী, জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কেএম আব্দুস সালাম মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে ভোটের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে লবিং জোরদার করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও নেতাদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব লোকবল দিয়ে বলয় সৃষ্টি করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে রেষারেষি অবস্থা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন তালিকা অনুযায়ী এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৪জন।








