ছাত্রীদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থাকা দুই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার ও শাস্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) এর প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম ও ছাত্রলীগসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান নেন ও দাবি মেনে নিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আজ সোমবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ টিএসসি চত্বর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় ও বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এদিকে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের ব্যানারে শিক্ষকরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি চলার পরে তারা ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের নেতারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু যৌন নির্যাতনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ম্লান করে দিয়েছে। অথচ ওই সব ঘটনায় জড়িত শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিনিয়ত অনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব বিষয়ে কর্ণপাত না করে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই দ্রুত ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনকারী দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, যৌন নির্যাতনকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, বিভিন্ন সময় দায়েরকৃত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মবহির্ভুতভাবে রহিতকৃত শিক্ষকের প্রমোশন বাস্তবায়ন, ছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ও আবাসন সংকট নিরসনে নতুন ছাত্রী হল নির্মাণ, কোর্স ফি অর্ধেক করা ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ, ক্লাস-পরীক্ষা সংকট নিরসনে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন তারা।
আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার আল্টিমেটাম দিয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম। এ সময় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. এটিএম শফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. আনিস খান, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. বলরাম রায়, সহ-সম্পাদক প্রফেসর ড. এসএম হারুন-অর-রশিদ, প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ, প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন, প্রফেসর আদিবা মাহজাবিন মিতুসহ শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।








