গ্রেফতার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার ৫ পুলিশ কর্মকর্তা ও দু’কনস্টেবল সহ ৫০জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুরে শাহাজাদপুর আমলী আদালতে মামলাটি করেন রূপবাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিব। শাহাজাদপুর আমলী আদালতের বিচারক পিটিশনটি আমলে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিব সরকারকে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।
মামলায় শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক গোলজার হোসেন, উপ-পরিদর্শক সাচ্চু বিশ্বাস, উপ-পরিদর্শক সামিউল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক, মতিউর রহমান, আমজাদ হোসেন এবং কনস্টেবল ময়নুল হক ও মো. সুমন সরদারসহ ৫০ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক মোহা. মোস্তফা কামাল মামলার সতত্যা স্বীকার করেছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর থানার ওসির নির্দেশে গত ২ নভেম্বর রাতে একদল পুলিশ শেলাচাপড়ি গ্রামে অভিযান চালায়। অবৈধভাবে তারা বাদীর বাড়িতে অনুপ্রবেশ এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি ছোট ভাই মিজানুরকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকার চাঁদা চায়। চাঁদা না পেয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট ও তার স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করে পুলিশ। কোনও ওয়ারেন্ট না থাকলেও প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় হ্যান্ডকাফসহ পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়।
শাহজাদপুর থানার ওসি খাজা মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাযুক্ত আসামি মিজানকে গত ২ নভেম্বর রাতে পুলিশ গ্রেফতার করে। আনার সময় মারপিট করে স্বজনরা তাকে ছিনিয়ে নেয়। হ্যান্ডকাফসহ সে এখনও ফেরার। এ ঘটনায় পুলিশ জ্ঞাত-অজ্ঞাত মিলে ৮২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে পুলিশের বিরুদ্ধে কাউন্টার মামলা করেছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে ওই আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। স্বজনরাই পুলিশকে মারপিট করে হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব অবহেলা বা গাফলাতির বিষয় খুঁজে পাওয়া যায়নি।’








