খুঁড়িয়ে চলছে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর স্কুল

জাকির মোস্তাফিজ মিলু, ঠাকুরগাঁও
১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২:৫০আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২:৫৯



খুঁড়িয়ে চলছে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর স্কুল ঠাকুরাগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে নির্মিত আদিবাসী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নানা সংকটে জর্জরিত। শিক্ষক, ক্লাসরুম বা শিক্ষা উপকরণ— এর কোনোটিই পর্যাপ্ত নেই। বিদ্যালয়টির অর্থায়ন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে করা হলেও এটি চলছে খুঁড়িয়ে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে সরকারের পক্ষ থেকে আদিবাসীদের শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও সবার জন্য শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলার যাদুরাণী বাজারে স্কুলটি নির্মাণ করা হয়। তবে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থাও। ফলে ব্যাহত হচ্ছে আদিবাসীদের শিক্ষাদান কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ছোট ছোট দুটি কক্ষ রয়েছে। কক্ষের চারদিকে ইটের দেওয়াল এবং ছাউনি টিনের। একটিতে পড়ানো হয় প্রাক-প্রাথমিকের ২৩ জন শিশুকে আর অন্যটিতে প্রথম শ্রেণির ৩০ শিশুকে। জায়গার অভাবে গাদাগাদি করে বসতে হয় তাদের।
এই স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কনক মুর্মূ বলেন, ‘আমরা খুশি যে মেয়েটি স্কুলে যাচ্ছে। সরকার যেমন স্কুলের উদ্যোগ নিয়েছে, আশা করি তাদের ওপরে তোলার দায়িত্বও তারা নেবেন। কিন্তু উপবৃত্তি না পাওয়ায় মেয়ের খরচ চালানো আমার জন্য কঠিন।’
খুঁড়িয়ে চলছে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর স্কুল বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক চিন্তামণি মুর্মূ বলেন, ‘এত শিক্ষার্থীর মাঝে একজন শিক্ষকের পাঠদান করানোটা অনেক কঠিন। তাছাড়া দু’টি মাত্র রুম, জায়গার সংকটে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।’
বিদ্যায়ের সভাপতি সনিরাম হেমরম জানান, উপজেলার ৯টি আদিবাসী গ্রামের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাষায় শিক্ষার সুযোগসহ প্রাথমিকের গণ্ডি পেরুবে— এ আশায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারিভাবে উপজেলা প্রাথমিক অফিস থেকে পাঠ্যবই দেওয়া হলেও নেই উপবৃত্তির ব্যবস্থা। এ ছাড়া স্কুলটিতে মাত্র দুটি কক্ষ। আর মাত্র একজন শিক্ষক থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়টিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ আর আরও বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে এ অঞ্চলের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম জে আরিফ বেগ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে মাসে তিন হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়।’
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দীক বলেন, ‘যে শিশুরা জন্মের পর থেকেই শিখে আসে পশু-পাখি শিকার, মাছ শিকার। তাদের বিদ্যালয়ের অনুশাসনের মধ্যে আনা সহজ ব্যাপার নয়। তাই তাদের মূলধারার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আনার জন্য আরও বেশি উদ্যোগ প্রয়োজন। আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন।’


 

/এসএসএ/এইচআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম