বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ডিপ্লোমা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র নাইম ইসলামকে (২০) গলা কেটে হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আটক ছাত্রলীগ নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নিহতের মা নাজমা বেগম শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) রাতে সারিয়াকান্দি থানায় এ মামলা করেন।
শনিবার সকালে পুলিশ আটককৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গ্রামের একটি মাঠ থেকে নাইমের মোটরসাইকেল ও রক্তমাখা শার্ট উদ্ধার করেছে। বিকালে তাদের আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন– সারিয়াকান্দির বাড়ইপাড়ার কান্টু মোল্লার ছেলে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনন্ত শ্রাবণ বিশু, একই গ্রামের আশিকুল ইসলাম বেলাল মুন্সির ছেলে আতিকুর রহমান, জোড়গাছা গ্রামের সাহাদৎ মেম্বারের ছেলে সিহাব বাবু, ধুনট উপজেলার গোলারতাইড় গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির ও চিকাশী গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে অন্তর মিয়া।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নিহত নাইমের মা নাজমা বেগম শুক্রবার রাতে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক নাইমের তিন সহপাঠীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এলোমেলো উত্তর দিচ্ছে। শনিবার সকালে রামকৃষ্ণপুর গ্রামের একটি ঘাসক্ষেতে নাইমের অ্যাপাচি মোটরসাইকেল ও ২শ’ গজ দূরে রক্তমাখা শার্ট পাওয়া গেছে। তবে মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, নিহত নাইম গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের মরিয়া গোলাবাড়ি গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ইন্তেজার রহমানের ছেলে। সে বগুড়া শহরে বেসরকারি পলিটেকনিক বিটে ডিপ্লোমা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ফোন পেয়ে সে বাড়ি থেকে বের হয়। শুক্রবার সকালে সারিয়াকান্দি বাজারের পূর্বপাশে তার গলাকাটা ও আগুনে ঝলসানো বিকৃত লাশ পাওয়া যায়। মা নাজমা বেগমের ধারণা, বন্ধুরা মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিতেই তার ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। তবে এলাকাবাসী বলছে, প্রেমিকা নিয়ে বিরোধেই বন্ধুরা তাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে আগুন দিয়ে শরীর ঝলসে দেওয়া হয়।








