খুলনায় নবনির্মিত আধুনিক রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রবিবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে প্রথম ট্রেন হিসেবে চিত্রা এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে খুলনা ছেড়ে গেছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মহানগরীর ৫ নম্বর ঘাট এলাকার বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, ‘ নতুন আঙ্গিকে খুলনার আধুনিক রেলস্টেশনটিকে ভাল লাগছে। রাতের বেলা স্টেশন ভবনটি আলো ঝলমলে হয়ে ওঠে। আর দিনের বেলা সাদা ভবনটি হয়ে ওঠে মনোরম। যা এ নতুন স্টেশনের আকর্ষণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’
রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘রবিবার পুরোপুরিভাবে আধুনিক রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হলো। আমরা অনেক খুশি।
খুলনা রেলস্টেশনের মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আধুনিক স্টেশনে এক সঙ্গে ৬টি ট্রেন প্রবেশ ও বের হতে পারবে। এখন থেকে নতুন এ স্টেশন ট্রেনের ব্যস্ততা ও যাত্রীসহ দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হবে।’
ট্রেন চলাচল উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পশ্চিম বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার জি এম মুজিবর রহমান, চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মো. শাহ নেওয়াজ, নিরাপত্তা বাহিনীর পশ্চিম বিভাগের চিফ কমাডেন্ট, রেলওয়ে ডিভিশনাল ম্যানেজার মো. নাজমুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, খুলনাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের এপ্রিলে আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ মাস মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিদাকারি প্রতিষ্ঠানের দফায় দফায় সময় বৃদ্ধির ফলে নির্মাণ ব্যয় ৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ অবস্থায় প্রকল্পে নতুন পানির ওভারহেড ট্যাঙ্ক যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় বেড়ে যায়। এরই মধ্যে নির্মাণাধীন ২ নম্বর প্লাটফর্মের ছাদে ফাটল দেখা দেয়। পরবর্তীতে বুয়েটের প্রকৌশলীদের পরামর্শে প্লাটফর্মের ছাদের দু’দিকে নতুন করে ভিম নির্মাণ করা হয়। পরিবর্তন করা হয় নকশাও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা সফরের সময় চলতি বছরের ৩ মার্চ স্টেশনটি উদ্বোধন করেন।
নবনির্মিত খুলনা আধুনিক রেলস্টেশনটি তিনতলা বিশিষ্ট। প্রথম তলায় রয়েছে- ৬টি টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের রুম। দ্বিতীয় তলায় স্টেশন মাস্টারের রুম, রেস্টুরেন্ট, ব্যাংকের শাখা, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ওয়েটিং রুম, ফাস্টফুডের দোকান এবং রেল কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কক্ষ। তৃতীয় তলায় রয়েছে রেলওয়ের প্রকৌশলীদের অফিস কক্ষ। নতুন এই স্টেশনে একসঙ্গে ৬টি ট্রেন প্রবেশ এবং বের হতে পারবে। স্টেশনে সিসি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেশন চত্বরে রয়েছে দৃষ্টি নন্দন ফুলের বাগান এবং অধিক সংখ্যক গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন- আধুনিক এ রেলস্টেশন থেকে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ আরও সহজ হবে। সেইসঙ্গে ভারতের যাত্রীদের খুলনা স্টেশনেই ইমিগ্রেশন ও চেকিংসহ সব ভ্রমণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।








