মানিকগঞ্জে বিএনপির বেশকিছু নেতাকর্মীর নামে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতা। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) রাতে মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম সদর থানায় এই মামলা করেন। মামলায় জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের ১৬ নেতাকর্মীসহ আরও অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় আসামিরা হলেন, জেলা যুবদলের সভাপতি কাজী রায়হান উদ্দিন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, আকবর আলী, আজাই হোসেন, মাসুদ রানা, শামীম হোসেন, আতাহার আলী, সিদ্দিকুর রহমান, লিটন মিয়া, করিম মিয়া, অলিন হোসেন, শ্যামল মিয়া, ফারুক মোল্লা, শামসুল আলম, আইয়ুর আলী ও মো. রাজা। তারা সবাই যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা মাহিদুল ইসলাম মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের ভাই। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, যুবদল নেতা কাজী রায়হান উদ্দিন ও গোলাম কিবরিয়াসহ আসামিরা জাহিদুলের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর সুপার মার্কেটের সামনে আসামিরা জাহিদুলের ব্যক্তিগত গাড়ির গতিরোধ করে। ওই সময় তারা জাহিদুলের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তবে চাঁদা দিতে রাজি না হলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
মামলার অন্যতম আসামি কাজী রায়হান উদ্দিন বলেন, জেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে এতদিন ‘গায়েবি’ মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও একাধিক ‘গায়েবি’ মামলা দেওয়া হয়। এ কারণে এক বছর ধরে তিনি মানিকগঞ্জের বাইরে অবস্থান করছেন। নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে মাঠে না থাকতে পারে, এজন্য এমন মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির নির্দেশেই এই মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে মামলার বাদী মাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দলীয় কর্মসূচিতে থাকার কথা জানান। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত ছাড়া কিছু বলা সম্ভব নয়।








