একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় ২৪৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে। এই বিভাগে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে মোট ৯১ জন প্রার্থীর। বিভাগের ৮ জেলায় মনোনয়নপত্র জমা দেন মোট ৩৩৫ জন প্রার্থী। বৈধ প্রার্থীদের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও রয়েছেন। এই এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে। বিভিন্ন আসনে বিএনপির বেশ কিছু প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও দলটি প্রতিটি আসনে একাধিক বিকল্প প্রার্থী দেওয়ায় সব আসনেই বিএনপির প্রতিনিধি রয়েছেন। এই বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে দিনাজপুর-৫ আসনে কোনও প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি।
বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগের মোট ১২ জন, বিএনপির ১৭ জন. জাতীয় পার্টির ৫ জন, জামায়াতের ২ জন, জাসদ (ইনু)-র ৩ জন, বিকল্প ধারার ১ জন, জাকের পার্টির ২ জন, গণ ফোরামের ১ জন, খেলাফত আন্দোলনের ১ জন, ইসলামী আন্দোলনের ১ জন, গণফ্রন্টের ১ জন, সমাধান ঐক্য পার্টির ১ জন এবং স্বতন্ত্র ৪৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারা। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ না ছেড়ে মনোনয়নপত্র জমা, মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না থাকা, ঋণখেলাপ, বিল খেলাপ, নির্বাচনি আসনের এক শতাংশ বোটারের স্বাক্ষর না থাকা বা ভোটারের স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে এদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিলদের তালিকায় স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেওয়া গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও রয়েছেন।
জেলাওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পঞ্চগড় জেলার দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৭ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে দুই জনের। দুজনই ছিলেন বিএনপির প্রার্থী। অপর জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে মোট মনোনয়নপত্র জমা দেন ২৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বাতিল হয় ৫ জনের। দিনাজপুরের ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট ৪৫টি, এর মধ্যে বাতিল হয় ১১টি। নীলফামারীর চারটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ৪১টি, এর মধ্যে বাতিল হয় ১৯টি। লালমনিরহাটের ৩টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ২৫টি, এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ৫টি। এর মধ্যে লালমনিরহাট-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবু হেনা মো.এরশাদ হোসেন সাজু ও লালমনিরহাট-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বাদ পড়াটা ছিল উল্লেখযোগ্য। রংপুরের ৬টি আসনে প্রধানমন্ত্রী. স্পিকার ও জাপা চেয়ারম্যানেরসহ মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ৬০টি, বাতিল হয় ১৪টি। কুড়িগ্রামের চারটি আসনে মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ৫৭টি, বাতিল হয় ১৯টি। আর গাইবান্ধা জেলার ৫টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে সর্বাধিক ৬৪টি। এরমধ্যে বাতিল হয় ১৬টি মনোনয়নপত্র।
নিচে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার রিটার্নিং অফিসের দেওয়া তথ্যানুসারে জেলার আসনভিত্তিক মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো:
জেলা ও আসন | মোট জমা | বাতিল | বৈধ | আ.লীগের বাতিল | বিএনপির বাতিল | জাতীয় পার্টির বাতিল | জামায়াতের বাতিল | অন্যান্য দলের বাতিল | স্বতন্ত্র বাতিল | মন্তব্য |
পঞ্চগড়-১ | ৯ | ১ | ৮ | ১ | ||||||
পঞ্চগড়-২ | ৮ | ১ | ৭ | ১ | ||||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
ঠাকুরগাঁও-১ | ৭ | ১ | ৬ | ১ (জাকের পার্টি) |
| |||||
ঠাকুরগাঁও-২ | ৭ | ০ | ৭ | |||||||
ঠাকুরগাঁও-৩ | ১২ | ৪ | ৮ | ১ (বিকল্প ধারা) | ৩ |
| ||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
দিনাজপুর-১ | ৯ | ৪ | ৫ | ২ | ২ |
| ||||
দিনাজপুর-২ | ৬ | ২ | ৪ | ১ | ১ | |||||
দিনাজপুর-৩ | ৬ | ২ | ৪ | ১ | ১ | |||||
দিনাজপুর-৪ | ৭ | ১ | ৬ | ১ | ||||||
দিনাজপুর-৫ | ৮ | ০ | ৮ | (কারও মনোনয়ন বাতিল হয়নি) | ||||||
দিনাজপুর-৬ | ৯ | ২ | ৭ | ১ | ১ | |||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
নীলফামারী-১ | ১০ | ৪ | ৬ | ১ | ১ | ১ | ১ | |||
নীলফামারী-২ | ৭ | ১ | ৬ | ১ | ||||||
নীলফামারী-৩ | ১১ | ৬ | ৫ | ২ | ১ | ১ (জাসদ ইনু) ও ১ (গণফ্রন্ট) | ১ | |||
নীলফামারী-৪ | ১৩ | ৮ | ৫ | ৪ | ১ | ৩ | ||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
লালমনিরহাট-১ | ১০ | ২ | ৮ | ১ | ১ | |||||
লালমনিরহাট-২ | ৯ | ১ | ৮ | ১ | ||||||
লালমনিরহাট-৩ | ৬ | ২ | ৪ | ১ | ১ | |||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
রংপুর-১ | ১০ | ৩ | ৭ | ১ (বিদ্রোহী) | ১ | ১ | ||||
রংপুর-২ | ১৩ | ২ | ১১ | ১ (বিদ্রোহী) | ১ (জাসদ ইনু) | |||||
রংপুর-৩ | ১২ | ২ | ১০ | ২ | ||||||
রংপুর-৪ | ৭ | ২ | ৫ | ১ (বিদ্রোহী) | ১ | |||||
রংপুর-৫ | ১০ | ৪ | ৬ | ২ | ২ | |||||
রংপুর-৬ | ৮ | ১ | ৭ | ১ (ইসলামী আন্দোলন) | ||||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
কুড়িগ্রাম-১ | ১০ | ১ | ৯ | ১ | ||||||
কুড়িগ্রাম-২ | ১৫ | ৪ | ১১ | ১ (বিদ্রোহী) | ১ (বিদ্রোহী) | ১ ( সমাধান ঐক্য পার্টি), ১ (জাসদ ইনু) | ||||
কুড়িগ্রাম-৩ | ৯ | ১ | ৮ | ১ | ||||||
কুড়িগ্রাম-৪ | ২৩ | ১৩ | ১০ | ১ | ১ (গণফোরাম), ১ (জাকের পার্টি) | ১০ | ||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
গাইবান্ধা-১ | ১৬ | ৬ | ১০ | ১ | ১ ( খেলাফত আন্দোলন) | ৪ | ||||
গাইবান্ধা-২ | ১১ | ৩ | ৮ | ৩ | ||||||
গাইবান্ধা-৩ | ১৫ | ৫ | ১০ | ১ | ১ | ৩ | ||||
গাইবান্ধা-৪ | ১৩ | ১ | ১২ | ১ | ||||||
গাইবান্ধা-৫ | ৯ | ১ | ৮ | ১ | ||||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
মোট | ৩৩৫ | ৯১ | ২৪৪ | ১২ | ১৭ | ০৫ | ০২ | ১১ | ৪৪ |








