দৈনিক খোলা কাগজের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রতিনিধি আলী ইউনুস হৃদয়ের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। রবিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে ব্যনার নিয়ে অংশ নেয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাণিজ্যিক সিনেমা “দহন” প্রদর্শনীর প্রতিবাদ জানালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত থাকা সাংবাদিক আলী ইউনুসের উপরও বর্বোচিত হামলা চালায় তারা। হামলার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। কিন্তু এ ঘটনায় তাকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। যেই প্রক্টর তার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই প্রক্টর আমরা চাই না।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে যে কেউ আন্দোলন করতে পারে। কিন্তু তাদের ওপর হামলা চালানোর মতো বর্বরতা কাম্য নয়। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় ঘটনায় আমরা তীব্র ও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
মানববন্ধনে রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মানিক রায়হান বাপ্পির সঞ্চালনায় রাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ছালেকীন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জাহিদ, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সিহাবুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি তুষার আহমেদ, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের শাকিলা খাতুন প্রমুখ এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক নেতারা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুল জামিল সুস্ময়কে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, রাজশাহীর উপহার হল বন্ধ হওয়ার পর বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র ‘দহন’ প্রদর্শনীর জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন ভাড়া নেয় জাজ মাল্টিমিডিয়া। এরপর ১ থেকে ৬ ডিসেম্বর প্রতিদিন দু’টি করে শো চালানোর জন্য প্রচারণা শুরু করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ প্রদর্শনীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে নামেন। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১ ডিসেম্বর) চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর শুরুর আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেন প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ঢুকতে বাধা দিচ্ছিলেন দর্শকদের। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক আলী ইউনুস হৃদয়কে লাথি দেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুল জামিল সুস্ময়।








