ফেনীর সোনাগাজীতে মোশারফ হোসেন রিপাত নামে সাত বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের চান্দলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর চাচা বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকালে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত শিশু রিপাত স্থানীয় চান্দলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে চান্দলা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা রিপাত হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে। এ সময় তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।
নিহতের মামা খোরশেদ আলম জানায়, রিপাতের পিতা রিকশাচালক। একদম সহজ সরল। পড়ালেখা জানেন না। রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তিনি দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলেকে হারিয়ে পাগলের মতো প্রলাপ বকছেন। রিপাতের মা জাহেদা বেগম ছোট অবুঝ শিশুকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চান্দলা গ্রামের রিকশাচালক রিপনের ছেলে চান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র মোশারফ হোসেন রিপাত প্রতিদিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরের সামনে খেলছিল। এ সময় একই বাড়ির মোমিনুল হকের ছেলে ওমর আলী বাবু (১৮) রিফাতকে খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে দূরে ধানক্ষেতের একটি গর্তে লাশ ফেলে দেয়। রাত হয়ে যাওয়ার পরও রিফাত বাড়ি না ফেরায় তাকে খুঁজতে থাকে পরিবারের লোকজন।
এলাকাবাসী রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত খুঁজে না পেয়ে ওই বাড়ির ওমর আলী বাবুকে সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে কোনও কিছু জানাতে রাজি না হলে এলাকাবাসী তাকে মারধর করে। পরে সে রিপাতকে হত্যার কথা স্বীকার করে ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এলাকাবাসী রিপাতের মাটি চাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় বাবু ও তার পিতা মোমিনুল হককে আটক করা হয়। থানায় খবর দিলে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে ও নিহত শিশুর লাশ থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, মঙ্গলবার ফেনী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে রিফাতের লাশ দাফন করা হয়।
চান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন টিপু জানান, নিহত ছাত্রটি সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে পরীক্ষা দিয়ে গেছে। সে ছাত্র হিসেবে ভালো ছিল। তার রোল নম্বর ছিল ৫। সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত। আমরা তার হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।








