বগুড়ার ধুনটে সোমবার রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় নৌকা মার্কার দুই কর্মী (যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা) আহত হয়েছেন। এ সময় তাদের মোটরবাইকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই খোকন মঙ্গলবার থানায় পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বাচ্চুসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে ৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে এলাঙ্গী বাজারে বগুড়া-৫ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবর রহমান এমপির নির্বাচনি কর্মীসভা হয়। সভা শেষে রাত ১১টার দিকে ৪-৫টি বাইকে কয়েকজন নেতাকর্মী জালশুকার দিকে যাচ্ছিলেন। তারা মাঠপাড়া এলাকায় পৌঁছলে ধানের শীষ প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের ৬০-৭০ জন সমর্থক পথরোধ করে হামলা চালায়। তাদের মারপিটে ধুনট উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহীন আলম আহত হন। হামলাকারীরা আগুন দিয়ে রেজাউলের মোটরবাইক পুড়িয়ে দেয়। আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই খোকন মঙ্গলবার ধুনট থানায় পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোখফিজুর রহমান বাচ্চুসহ বিএনপির ৩১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে যুবলীগ নেতা রেজাউল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহীনকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা এ হামলা চালিয়েছে। তাদের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম মামুন বলেন, ‘ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ও হয়রানির উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে আওয়ামী লীগ নিজেরা ঘটনাটি সৃষ্টি করেছে।
ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, নৌকার দুই কর্মীকে মারধর ও মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপির ৩১ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরো ৩০-৪০ জনের নামে থানায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।








